মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৭,২০৪ টন ডিজেলবাহী ট্যাংকার, পথে আরও চার জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যখন বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, ঠিক সেই সময়েই ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল নিয়ে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে একটি ট্যাংকার। ‘শিউ চি’ নামের এই জাহাজটি সোমবার চট্টগ্রাম বন্দর (Chattogram Port) এলাকার জলসীমায় নোঙর করেছে।

জানা গেছে, ট্যাংকারটিতে থাকা পুরো ডিজেল চালানটি আমদানি করা হয়েছে সিঙ্গাপুর (Singapore) থেকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে আরও কয়েকটি ডিজেলবাহী জাহাজ আসার কথা রয়েছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও চারটি ডিজেলবাহী ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। এসব জাহাজে মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার ২০৫ টন ডিজেল বহন করা হচ্ছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা আপাতত কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর মধ্যে ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের আরেকটি ট্যাংকার আজ রাতেই বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই জাহাজে প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল রয়েছে। একইভাবে আগামী বৃহস্পতিবার বন্দরে ভিড়বে ‘এসপিটি থেমিস’ নামের একটি ট্যাংকার, যার বহনক্ষমতা ৩০ হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল।

এদিকে আগামী শনিবার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ‘র‍্যাফেলস সামুরাই’ নামের একটি ট্যাংকারের। একই সময় ‘চ্যাং হ্যাং হং টু’ নামের আরেকটি জাহাজও বন্দরে আসবে। এই দুটি ট্যাংকারে প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে জ্বালানি আমদানির ধারা বেশ বিস্তৃত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (National Board of Revenue) এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট নয়টি দেশ থেকে ২৩ লাখ ২৮ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে তিনটি দেশ থেকে। আমদানির প্রায় ৭৮ শতাংশই এসেছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া (Malaysia) এবং ভারত (India) থেকে।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ থেকে ডিজেল আমদানি করা হয়নি। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে এই আমদানি কাঠামো ভবিষ্যতে কীভাবে প্রভাব ফেলবে—সেটি নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *