মধ্যপ্রাচ্যের চার রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু, দুবাই রুট চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে

ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রুটে আবারও ফ্লাইট চালু করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস (Biman Bangladesh Airlines)। বর্তমানে জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ ও মাসকাট রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত (M Rashiduzzaman Millat)।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয় (Bangladesh Secretariat)-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির ঝুঁকি বিবেচনায় কিছু রুটে ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এখন জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ ও মাসকাট রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে দুবাই রুট পুনরায় চালুর বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যেন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয় এবং বিমানের বোর্ডকে কার্যকর ও দক্ষ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বিমানে বর্তমানে যে জনবল সংকট রয়েছে, তা দ্রুত পূরণ করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে করে বিমানের সেবা আরও উন্নত হবে এবং যাত্রীরা সরাসরি এর সুফল পাবেন।

যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোর বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী জানান, আগে বিমানবন্দরে যাত্রীদের বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি গেট ছিল। ফলে একাধিক ফ্লাইট একসঙ্গে এলে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ভিড় তৈরি হতো। পরে পরিদর্শনে গিয়ে সেটি বাড়িয়ে দুটি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে আরও গেট বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে, যাতে যাত্রীরা দ্রুত লাগেজ নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করতে পারেন এবং অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি কমে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের শেয়ার বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপাতত সে ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে বিমানের পরিচালনা কাঠামো উন্নত করতে বোর্ডে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি জানান, প্রয়োজনে বাইরের অভিজ্ঞ পেশাদারদের মধ্য থেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগের বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে, যাতে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা যায় এবং বিদেশি এয়ারলাইনসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকা সম্ভব হয়।

টিকিটের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিভিন্ন বিষয় সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বিমানে নানা অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ছিল, যা ধীরে ধীরে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরের টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে স্ক্যানার মেশিন ও জনবল বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (National Board of Revenue)-এর সহযোগিতা প্রয়োজন হবে, কারণ কাস্টমসের জনবল ও স্ক্যানার মেশিন সরবরাহে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *