ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষের দিকে এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সোমবার সিবিএস নিউজ (CBS News)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় যুদ্ধ প্রায় শেষ। বলা যায়, এটি প্রায় শেষ হয়ে গেছে।”
ট্রাম্প দাবি করেন, সংঘাতের ফলে ইরান (Iran)-এর সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, দেশটির কার্যত কোনো নৌবাহিনী নেই, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং বিমান বাহিনীও কার্যকর অবস্থায় নেই। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও এখন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে নির্ধারিত সময়সূচির তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে। যুদ্ধ শিগগির শেষ হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি মূলত তার পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করছে। “যুদ্ধ শেষ করা এখন আমার চিন্তার মধ্যেই রয়েছে,” মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি (Mojtaba Khamenei)-এর উদ্দেশে কোনো বার্তা আছে কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তার জন্য তার কোনো বার্তা নেই।
এর আগে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধ এক মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। বর্তমানে সংঘাতের দশম দিন চলছে।
ফ্লোরিডার ডোরালে হাউস রিপাবলিকান কনফারেন্সে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প এই যুদ্ধকে “সংক্ষিপ্ত ভ্রমণ” বলেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দেশ খুব ভালো করছে। আমরা একটি অভিযান চালিয়েছি, কারণ কিছু অশুভ শক্তিকে সরিয়ে দিতে এটি প্রয়োজন ছিল। আমার মনে হয়, এটি সংক্ষিপ্ত ভ্রমণ হবে।”
বক্তব্যের সময় তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর সক্ষমতার প্রশংসা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি অত্যন্ত শক্তিশালী। উপস্থিতদের করতালির মধ্যেই তিনি বারবার এই সংঘাতকে স্বল্পমেয়াদি বলে উল্লেখ করেন।
তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ (Pete Hegseth) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে লেখা ছিল—“আমরা লড়াই কেবল শুরু করেছি।” এই বক্তব্যে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভিন্ন বার্তাও সামনে আসে।
এর আগে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং বিমান বাহিনী অকার্যকর হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিও এখন বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা অনেক দিক থেকেই ইতোমধ্যে জিতেছি, কিন্তু এখনো যথেষ্ট জিতিনি। এই দীর্ঘদিনের হুমকিকে একেবারে চিরতরে শেষ করতে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে আমরা আগের চেয়ে আরও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।”
বক্তব্যে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি (Qasem Soleimani)-কে হ’\ত্যা করার ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সোলাইমানি বেঁচে থাকলে ইরান হয়তো আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকতে পারত।
অন্যদিকে একজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা সিএনএন (CNN)-কে জানিয়েছেন, তেহরান দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রাখার সম্ভাবনাও রয়েছে।


