বাণিজ্য থেকে বিমান—বহুমাত্রিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের বিস্তৃত আলোচনা

বাণিজ্য, ব্যবসা, শিক্ষা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ (Bangladesh) ও যুক্তরাজ্য (United Kingdom)। আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমিতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি, ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বিস্তৃত করা এবং উচ্চশিক্ষাসহ শিক্ষাক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি।

লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর। বৈঠকে যুক্তরাজ্যের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেশটির বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী স্যার ক্রিস ব্রায়ান্ট (Chris Bryant)। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকায় পাওয়া এক সরকারি বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও গভীর করার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়ন এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষই মনে করে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করা উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে চলতি মাসের শেষ দিকে ক্যামেরুনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (World Trade Organization)–এর ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনকে সামনে রেখে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়েও একমত হয় দুই দেশ। বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার নানা ইস্যুতে সমন্বিত অবস্থান নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে বৈঠকে।

এর পাশাপাশি লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন। ওই বৈঠকে বিমান পরিবহন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলাপ হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ এবং এ খাতে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও আলোচনা করেন দুই পক্ষ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গেও মতবিনিময় করে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল।

অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিচারক পদে যুক্তরাজ্যের প্রার্থী অধ্যাপক ড্যাপো আকান্দে তার প্রার্থিতা উপস্থাপন করেন। তিনি ২০২৭ থেকে ২০৩৬ মেয়াদের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (International Court of Justice)–এর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সমর্থন প্রত্যাশা করেন।

বৈঠকগুলোতে বহুপাক্ষিক ফোরাম এবং আন্তঃসরকারি নির্বাচনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান সহযোগিতার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এই অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *