বুধবার (১১ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর সংসদ ভবন কার্যালয়ে গিয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, জাতীয় ইস্যু এবং ফেনী জেলার উন্নয়ন ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেছে এবি পার্টি (AB Party)-এর একটি প্রতিনিধি দল। দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু (Mojibur Rahman Manju)-এর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকের শুরুতেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বঞ্চনা, স্বৈরশাসনের সময়কাল এবং আগস্ট বিপ্লব পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-কে অভিনন্দন জানান এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
সাক্ষাতের সময় নিজের নির্বাচনী এলাকা ফেনী (Feni)-র পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি চিঠি তুলে দেন তিনি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শোনেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এবি পার্টির প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জনগণের কল্যাণে ইতিবাচক রাজনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আলোচনার এক পর্যায়ে ফেনীর ভৌগোলিক ও যোগাযোগগত গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, জেলার উন্নয়নসংক্রান্ত দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি আগ্রহী এবং বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
বৈঠকে নেতৃবৃন্দ জুলাই-আগস্টের উত্তাল সময়ের স্মৃতিচারণও করেন। এবি পার্টির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং দফতর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা।
জাতীয় রাজনৈতিক প্রসঙ্গের পাশাপাশি মজিবুর রহমান মঞ্জু তাঁর নির্বাচনী এলাকা ফেনীর উন্নয়ন নিয়ে বেশ কিছু নির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই জেলা শুধু তাঁর নির্বাচনী এলাকা নয়—এটি প্রধানমন্ত্রীর নানা’র জেলা এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া (Begum Khaleda Zia)-রও জেলা। সেই বিবেচনায় জেলার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মঞ্জু যে সুপারিশগুলো তুলে ধরেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—ফেনীতে একটি বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, ২৫০ শয্যার ফেনী সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করে সেটিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রূপান্তর করা। এছাড়া জেলার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং যোগাযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় একটি বিমানবন্দর ও সেনা ব্রিগেড স্থাপনের দাবিও জানানো হয়।
জেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার কথাও তুলে ধরা হয় বৈঠকে। এর মধ্যে রয়েছে ফেনীকে বন্যার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা, শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন, গ্যাস সংকট দূর করা এবং বিসিক শিল্পনগরীকে আধুনিকায়ন করা। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং ও মাদকের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ মাটির ব্যবসা বন্ধ, মুহুরী–কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ টেকসইভাবে নির্মাণ এবং ফেনীতে আন্তর্জাতিক মানের একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দোস্ত টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু করা এবং শহরের ময়লার ডিপো স্থানান্তরের বিষয়েও পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ফেনীর দুর্ঘটনাপ্রবণ লালপোল এলাকা এবং তীব্র যানজট সমস্যার কথাও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় একটি ফ্লাইওভার অথবা আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বৈঠকের শেষে এসব দাবি ও প্রস্তাব বাস্তবায়নে দ্রুত কাজ শুরু করার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


