ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সংসদের প্রথম অধিবেশনের সূচনা হয়। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে গঠিত এই সংসদের প্রথম দিন থেকেই উত্তপ্ত আলোচনা ও বিতর্কের সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলছে।
ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত এই সংসদকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রশ্ন সামনে আসায় অধিবেশনকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ ও উত্তাপ ক্রমেই বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রথম অধিবেশনের সূচনাতেই সংসদের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। পাশাপাশি পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়নও দেওয়া হবে। এ ছাড়া শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সেই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP) ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে। সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami) পেয়েছে ৬৮টি আসন।
এ ছাড়া নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party – NCP) এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (Bangladesh Khelafat Majlis) সহ আরও কয়েকটি দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে।
নতুন সমীকরণে গঠিত এই সংসদে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান ও সাংবিধানিক প্রশ্নে তাদের অবস্থান কীভাবে প্রতিফলিত হবে—তা নিয়ে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথম অধিবেশন থেকেই সেই বিতর্কের আভাস স্পষ্ট হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।


