মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা এলাকায় পাটুরিয়ার ব্যস্ত ফেরিঘাটে হঠাৎ ঘটে যাওয়া এক দুর্ঘটনায় তেলবোঝাই একটি লরি সরাসরি পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে। ফেরি থেকে নামার সময় ব্রেক বিকল হয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরিটি নদীতে পড়ে যায়। ঘটনার পর ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখনও নিমজ্জিত লরিটি পুরোপুরি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বিআইডব্লিউটিসি (Bangladesh Inland Water Transport Corporation) আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পদ্মায় ডুবে যাওয়া লরিটি উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেছে। এর পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ (Bangladesh Inland Water Transport Authority) ও ফায়ার সার্ভিস (Fire Service and Civil Defence)-এর সদস্যরাও উদ্ধার কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রক্রিয়াটি জটিল হলেও দ্রুত সময়ের মধ্যেই লরিটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
এর আগে বুধবার (১১ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ৫ নম্বর ঘাটে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে—লরির চালক ও হেলপার দুজনকেই জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১০ চাকার লরিটি যশোর থেকে প্রায় ২৪ হাজার লিটার বাম্প ওয়েল নিয়ে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। যাত্রাপথে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফেরিতে করে নদী পার হয়ে পাটুরিয়া ঘাটে নামার সময় হঠাৎ করেই লরিটির ব্রেক বিকল হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি পিছনের দিকে গড়িয়ে গিয়ে সরাসরি পদ্মা নদী (Padma River)-তে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তারা লরির চালক শরীফ এবং তার সহকারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ডুবে যাওয়া লরিটি উদ্ধারে বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ পদ্মার পানির নিচে তলিয়ে থাকা লরিটি শনাক্ত করে সেটিকে উপরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় লরির চালক ও তার সহযোগীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ডুবে যাওয়া লরিটি উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের এক নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, যেখানে লরিটি ডুবে গেছে সেখানে পানির গভীরতা অনেক বেশি। ডুবুরিরা বর্তমানে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র ক্রেনের সঙ্গে রেকার দিয়ে লরিটিকে বাঁধার চেষ্টা করছেন। এরপর নির্ধারিত পদ্ধতিতে সেটিকে টেনে তোলা হবে। গভীরতা ও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণেই উদ্ধার কার্যক্রমে সময় বেশি লাগছে।


