আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে দেশের মসজিদভিত্তিক ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য সরকার ঘোষিত সম্মানি ভাতা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। আগামী শনিবার, ১৪ মার্চ রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় (Ministry of Information and Broadcasting) থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বার্তায় বলা হয়, শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন (Osmani Memorial Auditorium)-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসান (Imranul Hasan) স্বাক্ষরিত বার্তায় আরও জানানো হয়, একই অনুষ্ঠানে দেশের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্যও সম্মানি প্রদানের কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর মধ্যে থাকছেন মসজিদের খাদেম, মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ।
এর আগে গত ৮ মার্চ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (Ministry of Religious Affairs)-এ অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party)-র নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই সম্মানী ভাতা চালু করা হচ্ছে। শুধু মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানই নয়, দেশের অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় নেতাদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।
ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ভাতা হিসেবে মোট ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থের মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন পাবেন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেমের জন্য বরাদ্দ থাকবে ২ হাজার টাকা।
একইভাবে প্রতিটি মন্দিরের জন্য মাসিক ৮ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে। এর মধ্যে পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবায়েত পাবেন ৩ হাজার টাকা।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও একই কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারের জন্য ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে, যেখানে বিহার অধ্যক্ষ পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ পাবেন ৩ হাজার টাকা।
এছাড়া খ্রিস্টান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি চার্চের জন্য মাসিক ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পালক বা যাজক পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী পালক বা সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা।
সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের কাজের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের একটি নতুন ধারা শুরু হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।


