বিএনপির ৭ ‘বিদ্রোহী’ এমপি জোটবদ্ধ হলে সংরক্ষিত নারী আসনে পাবেন ১টি আসন

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের বণ্টন নিয়ে নতুন হিসাব সামনে এসেছে। সে অনুযায়ী, বিএনপির ৭ ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য যদি জোটবদ্ধ হন, তাহলে তারা সংরক্ষিত নারী আসনে একটি আসন পাওয়ার যোগ্য হবেন। তবে তারা যদি জোট না করেন, তাহলে সেই আসনটি যাবে সর্বাধিক নারী আসন পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)-এর কাছে।

২০০৪ সালের জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত নারী আসন) নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রতি ছয়টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি করে নারী আসন বণ্টন করা হয়। বর্তমানে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল স্থগিত এবং শেরপুর-৩ (Sherpur-3) আসনে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় সংসদের কার্যকর আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৭।

এই হিসেবে ৫০টি নারী আসন বণ্টনের জন্য মোট আসন সংখ্যা দিয়ে হিসাব করা হবে। যে দল বা জোট যতটি সাধারণ আসন পেয়েছে, সেই সংখ্যাকে ভাগফলের সঙ্গে গুণ করে নারী আসনের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর নেতৃত্বাধীন বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়েছে এবং দলটির মিত্র গণঅধিকার পরিষদ (Gono Odhikar Parishad), বিজেপি ও গণসংহতি আন্দোলন (Ganosamhati Andolon) একটি করে আসন পেয়েছে। সব মিলিয়ে বিএনপি জোটের মোট আসন দাঁড়িয়েছে ২১২টি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami) পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং তাদের জোটসঙ্গী দলগুলো মিলিয়ে জোটের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭টি। তবে এনসিপি নারী আসনের নির্বাচনে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় জামায়াত জোটের আসন হিসাব কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।

আইনের হিসাব অনুযায়ী বিএনপি জোটের প্রাপ্য নারী আসন দাঁড়ায় ৩৫ দশমিক ৬৯, যা পূর্ণসংখ্যায় ৩৬টি আসন হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে জামায়াত জোটের প্রাপ্য দাঁড়ায় প্রায় ১১ দশমিক ৯৫, যা পূর্ণসংখ্যায় ১২টি আসন।

এই পরিস্থিতিতে স্বতন্ত্র সাতজন এমপি যদি জোটবদ্ধ হন, তাহলে তাদের প্রাপ্য হবে ১ দশমিক ১৭ আসন, যা আইনের নিয়ম অনুযায়ী একটি নারী আসন হিসেবে গণ্য হবে।

তবে তারা যদি কোনো জোটে না যান বা নিজেদের মধ্যে জোট না করেন, তাহলে তাদের প্রাপ্য আসনটি আইনের বিধান অনুযায়ী সর্বাধিক নারী আসন পাওয়া দলকে দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সেই আসনটি পাবে বিএনপি।

উল্লেখ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির সাতজন ‘বিদ্রোহী’ নেতা শেষ পর্যন্ত বেসরকারিভাবে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। দলের মনোনয়ন তথা ‘ধানের শীষ’ প্রতীক না পেয়েও তারা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিজয়ী এই স্বতন্ত্র নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, টাঙ্গাইল-৩ আসনের লুৎফর রহমান খান আজাদ, চাঁদপুর-৪ আসনের আব্দুল হান্নান, কুমিল্লা-৭ আসনের আতিকুল আলম শাওন, ময়মনসিংহ-১ আসনের সালমান ওমর রুবেল এবং দিনাজপুর-৫ আসনের রেজওয়ানুল হক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *