রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে এখনই কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party) বা বিএনপি। দলটির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে এসেছে—বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির হিসাব-নিকাশও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের প্রশ্নে আপাতত সময় নিয়ে কৌশলী অবস্থান নেওয়ার দিকেই ঝুঁকছে দলটি।
বিএনপির নেতাদের মতে, প্রথমত দলটি এখনই এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না, যা তাদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রপতি নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। তৃতীয়ত সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি রাষ্ট্রপতিকে তাদের দাবি ও চাপের মুখে সরাতে চায়। ফলে বিএনপি এখনই এ প্রশ্নে তাদের দাবি না মেনে কৌশলী অবস্থান গ্রহণের পক্ষে। কোনো অবস্থাতেই বিরোধীদের চাপের মুখে রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন করা হয়েছে এমন কোনো ধারণা জনমনে আসুক তা হতে দিতে চায়না দলটি। মূলত প্রথম দিকে রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের চিন্তা থাকলেও জামায়াত – এনসিপির অব্যাহত দাবির জন্যই সে চিন্তা থেকে সরে আসে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। আর যতদিন জামায়াত – এনসিপি এমন দাবি জারি রাখবে ততদিন এই পদে পরিবর্তন আনার তেমন কোনো সম্ভাবনাই নেই।
বিএনপির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করা হলে বর্তমান সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই রাষ্ট্রপতির পাঁচ বছরের মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে। অথচ এরপর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। ফলে এসব বিষয় বিএনপিকে বিশেষ বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি আলোচনা রয়েছে—যদি অন্তত ছয় মাস পর নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করা হয়, তাহলে পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও বিএনপির নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিই দায়িত্বে থাকতে পারবেন।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক বাস্তবতা, সাংবিধানিক সময়সীমা এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপতি পদে সিদ্ধান্ত নিতে বিএনপি আরও সময় নিয়ে হিসাব-নিকাশ করছে।


