টিসিবি লাইনে কান্নার ভিডিও ভাইরাল, শুকমন বেওয়াকে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী ও ঈদ উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী

টিসিবির পণ্য না পেয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া নাটোরের ৮২ বছর বয়সী শুকমন বেওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তার পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার হাতে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী ও ঈদ উপহার তুলে দেওয়া হয়েছে।

শুকমন বেওয়া নাটোর সদর উপজেলার হাপানিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার তিনি সকাল ১১টার দিকে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শহরের টিসিবি পণ্য বিক্রির লাইনে দাঁড়ান। বিকেল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পণ্য না পেয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সেসময় তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “সকাল থ্যাকি বসি থাকি একন খালি হাতে বাড়িত যাচ্ছি। টেকাও লিলো; কিন্তু তেল না দিয়া পরে টেকা ফিরায় দিলো। কত হাতে–পায়ে ধরনু, তা-ও দিলো না।”

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সেদিন সদর উপজেলার পাঁচটি স্থানে পাঁচটি ট্রাকের মাধ্যমে দুই হাজার ভোক্তার মধ্যে খাদ্যপণ্য বিক্রি করা হয়। প্রতিজনকে ৫১০ টাকার প্যাকেজে এক কেজি করে ছোলা ও চিনি এবং দুই কেজি সয়াবিন তেল সরবরাহ করা হয়। সম্ভাব্য বিক্রয়স্থল হিসেবে শহরের হেলিপ্যাড মাঠ, মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়, পাসপোর্ট অফিস চত্বর, উপজেলা মডেল মসজিদ চত্বর ও চাঁনপুর বাজার এলাকায় এসব পণ্য পাঠানো হয়।

তবে কোথায় কখন ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি হবে তা আগে থেকে না জানানোর কারণে সকাল থেকেই শত শত অসহায় নারী-পুরুষ সদর থানা মোড়, বাস মালিক সমিতির কার্যালয় ও উত্তরা ব্যাংকের সামনে জড়ো হন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকে পণ্য কিনতে না পেরে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান।

অপেক্ষমাণদের মধ্যে ববি খাতুন, তাহেরুন বেওয়া, এমদাদ হোসেন, মীর মোহাম্মদ মুনসুর, হাজ্জাজ খাঁ, আকাশ আলী ও ওমর ফারুকসহ অনেকের সঙ্গে কথা হয়। তাদের অনেকেই আট কিলোমিটার বা তার বেশি দূর থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য কিনতে এসেছিলেন।

হাজ্জাজ খাঁ বলেন, “আজই প্রথম তেল-ছুলা কিনতে আইচুনু। পাঁচ ঘণ্টা বসি থাকার পর শুনছি একানে দিবি না। রোজা মুকে রোদের মধ্যে দাঁড়ায় থাকি লাভ তো হলোই না; বরং ৫০ টেকা ভ্যানভাড়া লস হলি।”

তাহেরুন বেওয়া জানান, তিনি আগের দিন একটি প্যাকেট খাদ্যপণ্য কিনে ছেলের বউকে দিয়েছেন। এবার নিজের জন্য নিতে এসেছিলেন। অন্যদিকে ববি খাতুন জানান, তিনি তৃতীয়বারের মতো পণ্য নিতে এসেছেন, কারণ ভবিষ্যতে টিসিবির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ের সামনে দায়িত্বে থাকা ট্রাকের ট্যাগ অফিসার ও সরকারি গণগ্রন্থাগারের কর্মকর্তা সাজু আহম্মেদ বলেন, প্রতি ট্রাক থেকে প্রায় ৪০০ জনের কাছে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব। তবে কিছু মানুষ ট্রাকের কাছে ভিড় করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, পণ্য বিক্রির সময় ও স্থান আগে থেকে জানানো হলে ভিড় আরও বেড়ে যেতে পারে এবং অনিয়ম করে পণ্য কেনার প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই আগে থেকে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয় না, যদিও এতে কিছু মানুষের ভোগান্তি হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *