কয়েক দিনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির পর দেশের জ্বালানি বাজারে স্বস্তির বার্তা দিলেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা। তাদের আশা, সোমবারের মধ্যেই সারা দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ইতোমধ্যে অনেক ফিলিং স্টেশনে তেল পৌঁছাতে শুরু করেছে বলেও তারা জানিয়েছেন।
রবিবার (১৫ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (Anindya Islam Amit)-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক (Nazmul Haque) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “আমি আশা করছি আগামীকাল সন্ধ্যার মধ্যেই জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি থাকবে না। ইতোমধ্যে অনেক পাম্পে তেল পৌঁছে গেছে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে।”
গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের চালকদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি পেতে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সাময়িকভাবে জ্বালানি তেলের ওপর রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছিল। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছিল না।
এরই মধ্যে সামনে ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত বাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নেয়। আমদানিকৃত তেলের কয়েকটি ট্যাঙ্কার চট্টগ্রাম বন্দর (Chittagong Port)-এ পৌঁছানোর পর আজ থেকেই পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের ওপর আরোপিত রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আজ থেকে সারা দেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে চালু থাকা রেশনিং পদ্ধতি পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে এখন থেকে সব ধরনের যানবাহনের চালকরা কোনো নির্দিষ্ট সীমা বা বাধ্যবাধকতা ছাড়াই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করতে পারবেন। রবিবার সকাল থেকেই দেশের সব পাম্পে এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান (Iran) ও যুক্তরাষ্ট্র (United States)-এর মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় গত ৬ মার্চ থেকে দেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং চালু করেছিল সরকার।
রেশনিংয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ২ লিটার জ্বালানি নির্ধারণ করা হয়েছিল। এসইউভি ও মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার এবং দূরপাল্লার ভারী যানবাহনের জন্য ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। এই সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবহন খাতে এক ধরনের স্থবিরতা ও যাত্রীদের ভোগান্তি তৈরি হয়।
পরবর্তীতে রাইডশেয়ারিং চালকদের কথা বিবেচনায় নিয়ে মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি সীমা বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয় এবং সামগ্রিক রেশনিং হার ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল হওয়ায় সরকার শেষ পর্যন্ত এই রেশনিং পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


