ভোটের কালি শুকানোর আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ: টুকু

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ সরকার ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে। মানুষের আঙুলে ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার গোলাবাড়ি এলাকায় রাজখাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের আগে জনগণের কল্যাণে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য স্বস্তির খবর।

তিনি আরও জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। সেখান থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও সরকারের বড় অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের জলপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং কৃষি উৎপাদন ধরে রাখতে সরকার একটি বড় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি নদী ও খাল খনন করা হবে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় পর্যায়ক্রমে এ কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, রাজখাল খননের মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইল জেলায় এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। এর ফলে এলাকার পানি চলাচল সহজ হবে এবং কৃষি ও মৎস্য খাত নতুন করে গতি পাবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থা সচল রাখা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলায় খাল খনন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের লক্ষ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকদের আরও স্বাবলম্বী করে তোলা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।

তিনি জানান, টাঙ্গাইল জেলার যেসব খাল ইতোমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে বা মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে খনন করা হবে। এতে এলাকার পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং কৃষি ও মৎস্য খাতের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

রাজখাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু (Abdus Salam Pintu), জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (Bangladesh Water Development Board)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাইন উদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *