এক বছরে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার – ইউএনএইচসিআর

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আবারও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর (UNHCR) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার বেড়েছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মিয়ানমার থেকে নতুন করে পালিয়ে আসা মানুষের ঢল এবং শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া নবজাতক শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধি।

সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কক্সবাজার (Cox’s Bazar) জেলায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৬৪ জনে। ঠিক এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৬ হাজার ১০৭ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মোট বৃদ্ধি পেয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৫৭ জন।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার শাখার প্রধান মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, এই বৃদ্ধির পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করেছে—ক্যাম্পের ভেতরে স্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং মিয়ানমার থেকে নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের আগমন।

তিনি বলেন, প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার শিশু রোহিঙ্গা শিবিরে জন্ম নেয়। একই সঙ্গে বছরের বিভিন্ন সময়ে নতুন পরিবারও সীমান্ত পেরিয়ে ক্যাম্পে এসে আশ্রয় নিচ্ছে। এসব নতুন আগত ও নবজাতকদের তথ্য পরে ইউএনএইচসিআর এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (Refugee Relief and Repatriation Commissioner)–এর ডাটাবেসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট বৃদ্ধির মধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৬ জনকে “নতুন আগমন” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর বাকি ৩৪ হাজার ৩০১ জনের বৃদ্ধি ঘটেছে মূলত শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশুদের কারণে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে মিয়ানমারের ভেতরে সাধারণ সংঘাত এবং লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের নতুন ঢেউ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিই নতুন করে বহু রোহিঙ্গাকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছে।

নতুন আগতদের অনেককে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে শনাক্ত করা হলেও তাদের এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে নিবন্ধিত শরণার্থী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা যাতে বিতরণ করা যায়, সে জন্য আপাতত এসব পরিবারকে কেবল পারিবারিক কার্ড দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যে আরও দেখা গেছে, রোহিঙ্গা পরিবারের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট রোহিঙ্গা পরিবারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪১৫টি। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৪ হাজার ৩০৩টি। অর্থাৎ এক বছরে পরিবার বেড়েছে ৪১ হাজার ৯১২টি।

জাতিসংঘ (United Nations)–এর নথি অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশক থেকে শুরু করে ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নৃশংস সামরিক অভিযান শুরুর আগে পর্যন্ত বাংলাদেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা সদস্যের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৯ হাজার ৫০২ জন। কিন্তু ওই অভিযানের পর সহিংসতা থেকে বাঁচতে প্রায় দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, যা বিশ্বের অন্যতম বড় শরণার্থী সংকটে রূপ নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *