ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ, প্রধান জামাতে অংশ নেবেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতকে ঘিরে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (Dhaka South City Corporation)। সোমবার (১৬ মার্চ) বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট (Bangladesh Supreme Court) সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান সংস্থাটির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম (Md. Abdus Salam)।

তিনি বলেন, ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। রাজধানীবাসীর বৃহৎ এই ধর্মীয় সমাবেশকে নির্বিঘ্ন করতে ঈদগাহে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসক জানান, প্রায় ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার ক্ষেত্রফলজুড়ে বিস্তৃত ঈদগাহ ময়দানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। পুরুষ মুসল্লিদের পাশাপাশি নারীদের জন্যও রাখা হয়েছে পৃথক প্রবেশপথ ও আলাদা নামাজের ব্যবস্থা, যাতে সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদত করতে পারেন।

ঈদগাহ ময়দানে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে প্যান্ডেল স্থাপন করা হয়েছে। মুসল্লিদের আরামদায়কভাবে নামাজ আদায়ের জন্য পর্যাপ্ত ফ্যান, লাইট এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বসানো হয়েছে। আয়োজন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গরম বা ভিড়ের মধ্যেও যাতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ইবাদত করতে পারেন, সেদিকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়ার সম্ভাব্য বৈরিতার কথাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। বৃষ্টি হলে যেন নামাজের আয়োজন বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য বৃষ্টি নিরোধক সামিয়ানা স্থাপন করা হয়েছে এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবুও যদি আবহাওয়া প্রতিকূল হয়ে ওঠে, তবে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম (Baitul Mukarram National Mosque)-এ সকাল ৯টায়।

মুসল্লিদের অজুর সুবিধার্থে প্যান্ডেলের ভেতরে একসঙ্গে প্রায় ১৪০ জনের অজু করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রবেশপথ ও ঈদগাহ এলাকায় পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা ও ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায়ও নেওয়া হয়েছে কড়া ব্যবস্থা। ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশের জন্য ভিআইপি ও সাধারণ মুসল্লিদের জন্য চারটি ফটক রাখা হয়েছে এবং বের হওয়ার জন্য থাকবে সাতটি ফটক। পুরো এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি থাকবে এবং ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, এই প্রধান জামাতে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

তিনি আরও বলেন, মুসল্লিরা যাতে শান্তিপূর্ণ ও পবিত্র পরিবেশে নামাজ আদায় করতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ঈদগাহে আসার সময় কোনো ধরনের ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ সঙ্গে না আনার জন্য তিনি সবার প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।

পরিদর্শন শেষে প্রশাসক রাজধানীর বাসিন্দাদের পবিত্র ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানান এবং সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে আয়োজিত জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে অংশ নেওয়ার জন্য সবার প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *