পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, কলকাতায় গ্রেফতার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হ’\ত্যা মামলার দুই আসামি ও তাদের সহযোগীদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে ‘কনস্যুলার অ্যাক্সেস’ এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাদি হ’\ত্যা ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান দুই সন্দেহভাজনকে ভারত গ্রেফতার করেছে। তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে। একই সঙ্গে হাদি হ’\ত্যা মামলার দুই আসামিকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ফিলিপ সাংমার সঙ্গেও সাক্ষাতের আবেদন জানানো হয়েছে।
তবে এখনো ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কনস্যুলার অ্যাক্সেস মেলেনি বলে জানান তিনি। শামা ওবায়েদ বলেন, বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।
তিনি বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়ার পাশাপাশি দেশে ফিরিয়ে আনতে আমাদের সরকার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।” এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়ার পরই তদন্তের ভিত্তিতে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব হবে। “আমাদের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ চেষ্টা চলছে। আমরা আশা করছি, ভারত সরকার এ বিষয়ে সহযোগিতা করবে।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (Human Rights Watch) সহ নয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এক চিঠিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর কাছে র্যা’\পিড অ্যা’\কশন ব্যা’\টা’\লি’\য়ন (Rapid Action Battalion) বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি এখনো প্রতিবেদনটি বিস্তারিতভাবে পড়েননি।
তবে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এসেছে। তার ভাষায়, মানুষের সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যে র্যা’\পিড অ্যা’\কশন ব্যা’\টা’\লি’\য়ন গঠন করা হয়েছিল, সেটিকে গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে এবং বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
তিনি বলেন, বিএনপি একটি মানবিক সরকার গঠন করেছে এবং দলটি মানবাধিকারের প্রশ্নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। “বাংলাদেশে যেন মানবাধিকার আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়—সেই লক্ষ্যেই বিএনপি অতীতে কাজ করেছে, ভবিষ্যতেও করবে,” বলেন তিনি।
এর আগে সোমবার বিকেলে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে। বৈঠকে ফ্রান্স থেকে এয়ারবাস কেনার প্রসঙ্গ উঠেছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে সব বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতেই সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হবে।
এর আগে রোববার (১৫ মার্চ) বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। তবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি নিয়ে আলোচনা চলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা দেশে ফিরতে চান তাদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যারা সেখানে থাকছেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার নজর রাখছে।


