একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দিতে গিয়ে পদ হারালেন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক আবদুল জলিল

বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মো. আবদুল জলিল (Md. Abdul Jalil)-কে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (Islami Bank Bangladesh Limited)-এর পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আবদুল জলিল কর্মজীবনের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। পরে দীর্ঘ সময় ইসলামী ব্যাংকে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক থেকে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) পদ থেকে অবসরে যান। ফলে ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল।

তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ ওঠে যে, ব্যাংকের এক গ্রাহককে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank) অভিযোগের সত্যতা পায় এবং তাকে সতর্ক করে।

শুরুতে আবদুল জলিলকে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ ওঠার পর তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও এরপরও তিনি পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে বহাল ছিলেন।

এছাড়া রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তিনি জামায়াতপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এবার তাকে পরিচালক পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, জানা গেছে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান (Mostakur Rahman) ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় এবং ওই বৈঠকে আবদুল জলিল উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিকেলে তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ ব্যাংকার ও হিসাববিদ এস এম আবদুল হামিদকে নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য এর আগে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কীভাবে দলটির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন, তার একটি ভিডিও ফাঁস হয়। ভিডিওতে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুল ইসলাম মাসুদকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক আবদুল জলিলসহ কয়েকজনের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর বিকেএফ (ব্যাংকার্স কল্যাণ ফোরাম) নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এই অনলাইন কর্মী সভা আয়োজন করা হয়, যার অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন অগ্রণী ব্যাংকের এজিএম এ এন এম রকিব উদ্দিন। ওই কলে উপস্থিত ৩০০ ব্যাংক কর্মকর্তার মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা ছাড়াও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সংযুক্ত স্ক্রিন রেকর্ডে এবিপিএলসি বা অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি ছিল। আগামী জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য দায়িত্ব বণ্টন ও সেবিষয়ক প্রাথমিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিকেএফের এই অনলাইন সভায় প্রধান অতিথি/বক্তা ছিলেন জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *