বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) (BNP)-এর মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় কথায় নয়, কাজে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা বাস্তবায়নে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান।
সোমবার (২৩ মার্চ) সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ভাউলারহাট এলাকায় নেহা নদীর খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “কিছু নেতা মানুষকে বেহেশতে নেওয়ার টিকিট দেওয়ার কথা বলেন, কিন্তু বাস্তবে কেউ কাউকে সেখানে নিতে পারে না। ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের কাজ দিয়েই বেহেশতে যাব।”
তার বক্তব্যে অতীত ও বর্তমানের ধারাবাহিকতার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খননের মাধ্যমে যে সবুজ বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন, তা দেশের কৃষি অর্থনীতিকে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতাকেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুনরুজ্জীবিত করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষকদের কল্যাণে বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সময় শুরু হওয়া উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তার সময় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয় এবং ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষি জমির খাজনা মাফসহ কৃষকদের জন্য একাধিক সহায়ক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চালু হয়েছে এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি খাল খননের মাধ্যমে কৃষকদের পানি সংকটের একটি টেকসই ও প্রাকৃতিক সমাধান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার প্রশ্নে প্রশাসনের প্রতি সতর্কবার্তাও দেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “দয়া করে আল্লাহর ওয়াস্তে, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো দুর্নীতির আশ্রয় নেবেন না।”
ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


