স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘আমরা ক্রিকেট বোর্ডে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’ তার কথায় খানিকটা বিদ্রূপ, খানিকটা পাল্টা জবাবের সুর—‘এতোদিন পর্যন্ত শুনতাম মায়ের দোয়া পরিবহণ আছে, আজকে মাননীয় সদস্যের কল্যাণে দেখলাম বাপের দোয়া কমিটিও আছে।’
সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (Bangladesh Cricket Board)-এর নির্বাচিত কমিটি বাতিল করে ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। এই কমিটির নেতৃত্বে আছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল (Tamim Iqbal)। সিদ্ধান্তটি ঘোষণার পর থেকেই ক্রীড়া অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
গঠিত ওই কমিটিতে বিভিন্ন প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এতে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে সৈয়দ ইব্রাহিম আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর ছেলে ইসরাফিল খসরু এবং গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী রাশনা ইমাম।
এই প্রেক্ষাপটে বুধবার জাতীয় সংসদে বিষয়টি তুলে ধরেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি তীব্র ভাষায় বলেন, ‘বিসিবিকে যেভাবে দখল করা হয়েছে, তাতে এটি আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নেই—এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়েছে।’
এমন মন্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অতীত প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে দেশের বিভিন্ন জেলা কমিটি ও নিবন্ধিত ক্লাবগুলোকে প্রভাবিত করেছিলেন। এমনকি হাইকোর্টের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বডি গঠনের বিষয়টিও তার বক্তব্যে উঠে আসে।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার ক্রীড়া মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যেখানে পূর্বের অনিয়মগুলো খতিয়ে দেখা হয়। সেই তদন্ত প্রতিবেদনে যথেষ্ট অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পরই একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সবশেষে আবারও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’ তার এই মন্তব্যে সংসদ কক্ষে যেমন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তেমনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও নতুন করে বিতর্কের ঢেউ উঠেছে।


