দারুণ এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল (Bangladesh National Cricket Team)। নাহিদ রানার আগুনে বোলিং আর তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর পরিণত ব্যাটিংয়ে ৬ উইকেটের জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরেছে স্বাগতিকরা।
গত শুক্রবার তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২২ রানের হারে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচটি হয়ে ওঠে ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই। সেই চাপের ম্যাচেই ব্যাট-বল দুই বিভাগে সমানতালে পারফরম্যান্স করে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় দল।
সোমবার মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম (Sher-e-Bangla National Cricket Stadium)-এ টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল (New Zealand National Cricket Team)। তবে শুরু থেকেই পেসার নাহিদ রানার গতির মুখে পড়ে ছন্দ খুঁজে পায়নি সফরকারীরা।
৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে একমাত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ওপেনার নিক কেলি, যিনি করেন ৮৩ রান। তবে অন্য ব্যাটসম্যানরা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপ বাড়ান।
বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা ছিলেন বিধ্বংসী—১০ ওভারে মাত্র ৩২ রান খরচে তুলে নেন ৫ উইকেট। তাকে ভালো সঙ্গ দেন শরিফুল ইসলাম, যিনি সমান ৩২ রানে নেন ২ উইকেট। এছাড়া তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকার ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট ভাগ করে নেন।
১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ২১ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকার, দুজনেই করেন ৮ রান করে।
এই বিপর্যয়ের পরই দৃশ্যপটে আসেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত (Najmul Hossain Shanto)। তৃতীয় উইকেটে ১১০ বলে ১২০ রানের অসাধারণ জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে আসেন তারা।
তানজিদ হাসান তামিম ছিলেন আক্রমণাত্মক ভূমিকায়। ৫৮ বলে ১০টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৭৬ রানের ইনিংস খেলে দলীয় ১৪১ রানে আউট হন তিনি। তার বিদায়ের পর ব্যাট করতে নেমে হতাশ করেন লিটন কুমার দাস—ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচে ১১ বলে করেন মাত্র ৭ রান।
অন্যপ্রান্তে শান্ত খেলেন দায়িত্বশীল ইনিংস। ৭১ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫০ রান করার পর আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
শেষদিকে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে সহজেই ম্যাচ শেষ করেন তাওহীদ হৃদয়। ৩১ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি, আর মিরাজ করেন ২৫ বলে ৮ রান। ৮৭ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এই দাপুটে জয়ের মাধ্যমে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ, যা শেষ ম্যাচের আগে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।


