রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় জাইমা রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে। এ ঘটনায় ডাকসুর দুই নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার পেছনে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে ছাত্রদল (Jatiyatabadi Chhatra Dal)।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর শাহবাগ থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রদল সংশ্লিষ্টরা জানান, জাইমা রহমানকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানোর প্রতিবাদে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানায় যান। সেখানে তারা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জিডি করতে দেখতে পান এবং তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান।
ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধানের জন্য থানায় গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে কিছু ব্যক্তি উসকানিমূলক আচরণ করতে করতে থানায় প্রবেশের চেষ্টা করে, তখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।’
এ সময় ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতির এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
তবে ইসলামী ছাত্রশিবির (Islami Chhatra Shibir) দাবি করেছে, তাদের নেতাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে এবং সহিংসতা এড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার একাধিক নেতা দাবি করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত তাদের কর্মীরা পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসেন এবং আরও বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে ভূমিকা রাখেন।

ঘটনার পর আহতদের শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং থানার সামনে বিক্ষুব্ধ জনতা অবস্থান নেয়। পরে রাতের দিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সংশ্লিষ্টদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘিরে দুই পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি পোস্ট থেকেই যে উত্তেজনার সূত্রপাত, তা উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে।


