গণভোট প্রচারণায় ৭ দিনে ১ কোটি টাকা—বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া অর্থ নিয়ে রিফাত রশিদের ব্যাখ্যা

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে সাত দিনের জন্য ১ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সভাপতি ও সদ্য জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party – NCP)-তে যোগ দেওয়া রিফাত রশিদ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ তছরুপের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

রিফাত রশিদ তার বক্তব্যে বলেন, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদ্য সাবেক মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা তাদের বিরুদ্ধে গণভোটের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনেন, যা তিনি ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন। কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগকে তিনি গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করলেও পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।

আত্মপক্ষ সমর্থনে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য একটি তহবিল প্রয়োজন ছিল। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank) অর্থায়নে সম্মত হয়। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটি নিবন্ধিত সংগঠন না হওয়ায় সরাসরি অর্থ গ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে একটি ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়।

রিফাত জানান, সেই ফাউন্ডেশনে সিনথিয়া জাহিন আয়েশাও শুরুতে যুক্ত ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও স্বাক্ষর প্রদান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি গণভোট-সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ান এবং দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি তাকে ফাউন্ডেশনে রাখা হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকিও দেন বলে দাবি করেন রিফাত। পরবর্তীতে তাকে বাদ দিয়েই ফাউন্ডেশনের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়।

অর্থ সংগ্রহের প্রসঙ্গে রিফাত বলেন, ১৫ দিনের প্রচারণা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ৫ কোটি টাকার একটি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে নিবন্ধিত ফাউন্ডেশনকে সাত দিনের প্রচারণার জন্য ১ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে সারাদেশে সাত দিনের গণভোট প্রচারণা চালানো হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রচারণার সম্পূর্ণ আর্থিক হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত একটি অডিট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করা হয়েছে এবং সেই অডিট রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।

রিফাত রশিদ অভিযোগ করেন, সিনথিয়াসহ কয়েকজন সাবেক নেতা পরিকল্পিতভাবে তাদের বিতর্কিত ও হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ এনেছেন। তিনি এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন বা অন্য কোনো তদন্ত সংস্থা চাইলে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং সব ধরনের প্রয়োজনীয় নথিপত্র তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।

সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী নেতৃত্বের কাছ থেকে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা ও নেতৃত্ব নির্ধারণ না হওয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চার মাসের একটি ট্রানজিশনাল সংকটের মধ্য দিয়ে যায়। এতে সারাদেশের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা হয়রানি ও পরিচয় সংকটে পড়েন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাবেক নেতাদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

তিনি জানান, পরবর্তীতে সাধারণ সভায় ট্রানজিশনাল সময়ের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণের জন্য সিনথিয়া জাহিন আয়েশাকে গঠনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। এর ফলে কেন্দ্রীয় কমিটির দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিতে একটি উপদেষ্টা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে, যা দ্রুত সংগঠনের পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *