‘বিড়ালের মতো দীর্ঘ নয়, সিংহের মতো ক্ষণিক জীবনই যথেষ্ট’—সমাবেশে কঠোর বার্তা জামায়াত আমিরের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, আপসের রাজনীতি আর নয়। তার ভাষায়, “বিড়ালের মতো শত হাজার বছর বাঁচতে চাই না, বরং সিংহের মতো এক সেকেন্ড বাঁচতে চাই।” আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান (Suhrawardy Udyan)-এ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (Bangladesh Khelafat Majlis)-এর গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসে সংগ্রামের আহ্বান। বিশেষ করে যুবসমাজকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “তৈরি হও। আর প্রশ্ন করো না—কতবার জীবন দিতে হবে। দেশের প্রয়োজনে যতবার দরকার, আমরা সবাই প্রস্তুত। আমিও তোমাদের কাতারে একজন যুবক হিসেবেই দাঁড়িয়ে আছি।” তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এই লড়াই ব্যক্তির নয়, জনগণের; এবং শেষ পর্যন্ত বিজয়ও জনগণেরই হবে। তার মতে, জনগণ ইতোমধ্যেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, আর সেই অবস্থানই একদিন চূড়ান্ত বিজয়ে পৌঁছাবে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অতীতের অভিজ্ঞতার কথাও টেনে আনেন তিনি। নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “নিকট অতীতে যাদের কাঁধে ভর করে ক্ষমতায় গিয়েছেন, যাদের সহযোগিতায় নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়েছেন, তাদের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিন।” তিনি ইঙ্গিত দেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার ব্যর্থতাই অনেকের পতনের কারণ হয়েছে।

সমাবেশে তিনি মাওলানা মামুনুল হক (Maulana Mamunul Haque)-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তাকে সংসদে যেতে না দেওয়ার পেছনে ভয়ের রাজনীতি কাজ করেছে। “যা হতো, সেই আশঙ্কাতেই তাকে আটকে রাখা হয়েছে। কিন্তু কতদিন আর আটকে রাখা যাবে?”—প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, দেশপ্রেমিকদের হাতেই আগামী বাংলাদেশের দায়িত্ব যাবে। তিনি ঘোষণা দেন, “লড়াই চলবে, থামবে না। জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।” তার কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা—“জীবন চলে যেতে পারে, কিন্তু মাথা নত হবে না।”

সমাবেশ থেকে জুলাইয়ের আন্দোলনের প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “জুলাইকে আমরা সম্মান করব, হৃদয়ে ধারণ করব। এর সঙ্গে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা সহ্য করা হবে না।” যারা এই চেতনার বিরুদ্ধে যাবে, তাদের প্রতি কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি।

শেষাংশে আবারও যুবকদের উদ্দেশে একই বার্তা পুনরুচ্চারণ করেন—প্রস্তুতি নিতে হবে অনিবার্য এক লড়াইয়ের জন্য। আপসের সব পথ বন্ধ করে দিয়ে তিনি বলেন, “সিংহের মতো বাঁচার মানসিকতা নিয়েই এগোতে হবে। কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না—প্রয়োজনে সবকিছু ছিন্ন-ভিন্ন করে দেওয়া হবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *