ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন শাহবাগ থানাকে কেন্দ্র করে একটি ফেসবুক পোস্টের জেরে সৃষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (Bangladesh Jatiyatabadi Chhatra Dal)-এর সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) শাহবাগ এলাকায় প্রকাশ্য ও গুপ্ত শিবিরের নেতাকর্মীদের সৃষ্ট একটি মব এবং ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ কর্মীদের মধ্যে হঠাৎ করেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই উত্তেজনার মধ্যেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka) সাংবাদিক সমিতির কয়েকজন সদস্য আহত হন।
নাছির উদ্দীন নাছির তার বক্তব্যে বলেন, “জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। আমরা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি।” তাঁর এই বক্তব্যে ঘটনাটির প্রতি দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে সাংবাদিক সমিতির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে যেন কোনো সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হন—এ প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অন্তত আটজন আহত হন। আহতদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (Dhaka Medical College) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রাত প্রায় ৮টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ঘিরে শাহবাগ থানার ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের (২২), সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী (২৩), শিক্ষার্থী তানজিম (২১), শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সিফাত (২০), সাংবাদিক লিটন (২১), সাংবাদিক খালিদ (২১), শিক্ষার্থী দেবাশিষ (২৪) এবং শিক্ষার্থী আলবি (২২)। তাদের চিকিৎসা চলছে এবং পরিস্থিতি নিয়ে এখনো উদ্বেগ বিরাজ করছে।


