অশোভন আচরণ কি বাকস্বাধীনতা? মাহদী আমিনের প্রশ্নে নতুন বিতর্ক

বাকস্বাধীনতার সীমা ও তার প্রকৃত অর্থ নিয়ে সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, আমরা যে বাকস্বাধীনতার কথা বলি, তারও একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। প্রশ্ন তুলে তিনি জানতে চান—আমরা আসলে বাকস্বাধীনতা বলতে কী বুঝি?

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দক্ষতার সঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। গত দুই মাসে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মারস কার্ড চালু করা, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খতিবদের সম্মানী প্রদান, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানসহ নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে এসব কার্যক্রম যেভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে একই সঙ্গে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অবজ্ঞাসূচক ও আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি প্রশ্ন রাখেন—অশোভন আচরণ করা কি বাকস্বাধীনতা? শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাষা ব্যবহার, অপপ্রচার বা ভুয়া পরিচয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি—এসব কি বাকস্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত?

মাহদী আমিন বলেন, প্রকৃত বাকস্বাধীনতা হলো ন্যায্য, সত্য ও দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রকাশ। তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন নিজস্ব পরিচয়ে রাজনীতি করে এবং দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka)-এর ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman)-এর কর্ম ও জীবন নিয়ে “কমল কুঁড়ি” আয়োজিত ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ: আত্মপরিচয়ের উত্তরাধিকার’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে তিনি ইতিবাচক রাজনীতির ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা গণতন্ত্রের অংশ, তবে অশালীনতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। বাকস্বাধীনতা মানে অন্যকে সম্মান করা, দেশের স্বার্থে সত্য কথা বলা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে, তবে সেই প্রক্রিয়ায় দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থই সর্বাগ্রে থাকতে হবে।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি এমন একটি ধারণা যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা মতাদর্শ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়। তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিবাদ পতনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)-এর নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির রাজনীতিতে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিফলন রয়েছে এবং ইসলামসহ সব ধর্মের প্রতি সম্মান দেখানো হয়। সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজনের মতো পদক্ষেপের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

স্বাধীনতার প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যার মাধ্যমে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি সবসময় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান এবং সঞ্চালনা করেন প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন রুহুল কবির রিজভী (Ruhul Kabir Rizvi), আব্দুস সালাম (Abdus Salam), আবদুল হাই শিকদার (Abdul Hai Shikdar)সহ আরও অনেকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *