বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আ’লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই—সংসদে আন্দালিভ রহমান পার্থ

বর্তমান সরকারের অন্যতম মিত্র দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (Bangladesh Jatiya Party) সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ সংসদে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা অস্বীকার করে কোনো দল টিকে থাকতে পারে না, বিশেষ করে ‘জুলাই’ প্রসঙ্গকে উপেক্ষা করে রাজনীতি করার সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন পার্থ। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed)-এর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে যে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, তা তরুণ প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা যায়নি বলেই এখন তারা “৩৬ জুলাই” নিয়ে কথা বলে। তিনি এটিকে রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবেই দেখেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)-এর বিচারের রায় গণভবনের বারান্দায় লেখা হয়েছিল। একইসঙ্গে ইঙ্গিত করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর রায়ও সম্ভবত একইভাবে ক্ষমতার কেন্দ্র থেকেই নির্ধারিত হয়েছে। তার ভাষায়, বিচার বিভাগকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে ফেলা হয়েছিল।

বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তোলেন পার্থ। তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের নামের সঙ্গে ‘জাতির জনক’ উপাধি না লিখলে পরীক্ষায় পাস করা যেত না। এমনকি ডিএনএ টেস্টের নামে ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

গণমাধ্যমের পরিস্থিতি তুলে ধরে পার্থ বলেন, একসময় সংবাদমাধ্যমের মালিকরা পর্যন্ত নিরাপদে ঘুমাতে পারতেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেওয়ার আগে বহুবার মুছে ফেলতে হতো, এই ভয়ে যে আইসিটি আইনে গ্রেপ্তার হতে হতে পারে।

ব্যবসায়ী মহলের আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বড় বড় ব্যবসায়ীরাও ক্ষমতাসীনদের প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য দেখাতে বাধ্য হয়েছেন—যা রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য উদ্বেগজনক।

বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে পার্থ বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হলে গণঅভ্যুত্থানের প্রস্তুতির কথা বলা হচ্ছে, এমনকি জিয়া পরিবার থেকে দেশকে মুক্ত করার ঘোষণাও দেওয়া হচ্ছে। এর জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, গত ১৬ বছর ধরে জিয়া পরিবার থেকে দেশকে মুক্ত করার চেষ্টার পরিণতিতে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) হেলিকপ্টারে করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

তার এই বক্তব্যে সংসদে বিরোধী দলীয় সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং অধিবেশনে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *