সংসদে কাদা ছোড়াছুড়ি নয়, ইতিবাচক রাজনীতির আহ্বানে একমত সরকার-বিরোধী শিবির

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও বিরোধী দল এখনো তাদের সদস্যদের নাম চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় নিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সংসদে সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা একসুরে কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি পরিহার করে দেশকে এগিয়ে নিতে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এই বার্তা দেন, যা সংসদের সাম্প্রতিক পরিবেশে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে বিকেলের অধিবেশন শুরু হলে আইনমন্ত্রী জানান, সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সরকারদলীয় সদস্যদের নাম ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বিরোধী দলের প্রতি দ্রুত তাদের সদস্যদের নাম জমা দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে কমিটির কার্যক্রম বিলম্বিত না হয়।

অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতা সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, তাদের দলীয় অভ্যন্তরীণ আলোচনার মাধ্যমে খুব শিগগিরই সদস্যদের নাম চূড়ান্ত করে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এই বক্তব্যে বোঝা যায়, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে উভয় পক্ষের মধ্যেই একধরনের সমঝোতার চেষ্টা রয়েছে।

এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সংসদ সদস্যরা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার নানা দিক তুলে ধরেন। আলোচনার এক পর্যায়ে কয়েকজন সদস্য কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বক্তব্য রাখেন, যা অধিবেশনকে একসময় যেন কবিতা পাঠের আসরে রূপ দেয়—সংসদের কঠোর রাজনৈতিক পরিবেশে এটি ছিল কিছুটা ব্যতিক্রমী দৃশ্য।

বিরোধীদলীয় সদস্য ও জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম (ATM Azharul Islam) অতীতের বিভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যৎমুখী রাজনীতির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এদিকে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন (Ishraq Hossain) বলেন, বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোর ধারাবাহিকতায় নয়, বরং জনগণের সরাসরি ভোটে ম্যান্ডেট নিয়েই সংসদে এসেছে। তার এই মন্তব্য সংসদে রাজনৈতিক বৈধতা ও জনসমর্থন নিয়ে চলমান বিতর্কের দিকেও ইঙ্গিত করে।

দিনটির কার্যসূচিতে অতীতের একটি মর্মান্তিক স্মৃতিও স্থান পায়। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় সংসদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজন সংসদ সদস্যদের মধ্যে এক ধরনের আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে, যা সাময়িকভাবে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক সংহতির বার্তা দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *