সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’ অভিযোগের সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি

জাতীয় সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’ শিরোনামে প্রকাশিত বহুল আলোচিত সংবাদের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—উক্ত কেনাকাটায় কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা ‘হরিলুট’-এর ঘটনা ঘটেনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কমিটির আহ্বায়ক ও হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (ABM Ashraf Uddin Nizan)-এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সংসদের স্পিকারের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে সংসদ ভবনের টানেলে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তদন্তের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়, যেখানে আলোচিত কেনাকাটার নানা তথ্য-উপাত্ত বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল তিনটি ক্যামেরা লেন্সের দাম ৩৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা। তবে তদন্তে নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, এই লেন্সগুলোর প্রকৃত মূল্য ছিল ৩ লাখ ৭৪ হাজার ১০০ টাকা। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক কমিটির কাছে স্বীকার করেছেন যে এটি সম্ভবত ‘মুদ্রণজনিত ভুল’ ছিল।

তদন্ত চলাকালে আরও জানা যায়, সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে এখনো কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া প্রতিটি সরঞ্জামে কার্যাদেশ অনুযায়ী নিকন ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো যথাযথভাবে সংযুক্ত ছিল বলেও নিশ্চিত করেছে কমিটি।

ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ (Public Procurement Rules 2025) অনুসরণ করেই আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে ভ্যাট, ট্যাক্স এবং ঠিকাদারের যৌক্তিক মুনাফা যুক্ত করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে একটি পদ্ধতিগত ত্রুটির বিষয়ও চিহ্নিত করা হয়েছে—কার্যাদেশে ক্যামেরার উৎপত্তিস্থল জাপান উল্লেখ থাকলেও সরবরাহ করা হয়েছে থাইল্যান্ডে তৈরি পণ্য। এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তৎকালীন সচিব কানিজ মাওলা (Kaniz Mowla)-এর লিখিত অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সংসদের গণসংযোগ শাখার সরঞ্জাম দ্রুত প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন থেকেই এই ক্রয় কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখযোগ্য যে, সম্প্রতি সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক পণ্য কেনাকাটায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগ সামনে আসে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, বাজারদরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দামে ক্যামেরা ও ব্যাগ কেনা হয়েছে—যা নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

‘সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট’ শিরোনামে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদন সংসদের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের নজরে এলে বিষয়টি তদন্তে নামে সংসদ। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed) বীর বিক্রম পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় লুৎফুল্লাহেল মাজেদ (Lutfullahil Majed), মো. সাইফুল আলম, হুমাম কাদের চৌধুরী এবং হাসনাত আব্দুল্লাহকে।

এ প্রেক্ষিতে গত ২১ এপ্রিল সংসদ সচিবালয়ের মানবসম্পদ শাখা-১ থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়, যেখানে কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *