শ্রমিকের কল্যাণেই দেশের উন্নতি—শ্রমিক দিবসে তারেক রহমানের বার্তা

শ্রমিকরা ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে—এমন মন্তব্য করেছেন তারেক রহমান (Tarique Rahman)। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বন্ধ হয়ে থাকা কল-কারখানা চালুর নির্দেশ দিয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা হবে, যাতে শ্রমিকরা কাজের সুযোগ পায় এবং জীবিকা নির্বাহে স্থিতি ফিরে আসে।

শুক্রবার (১ এপ্রিল) বিকেলে নয়াপল্টনে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)-এর উদ্যোগে। এতে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir)।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে শ্রমিক ও কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্ত্রীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং তাদের জন্য আলাদা কার্ড চালুর বিষয়েও কাজ চলছে।

গ্রামভিত্তিক সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে, অথচ তারা সময়মতো প্রয়োজনীয় পানি পায় না। এই সমস্যা সমাধানে সরকার খাল খননের কাজ শুরু করেছে। তার ভাষায়, “কৃষক ও শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারলে বাংলাদেশের সামগ্রিক ভাগ্যও বদলে যাবে।”

সমাবেশে তিনি অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও আত্মত্যাগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত শ্রমিকদের স্মরণ করে তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান। বিশেষ করে শ্রমিক দলের ৭২ জন সদস্যের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি তাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

বিগত সরকারের সময়কার দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, আজকের মতো শান্তিপূর্ণ সমাবেশ তখন সম্ভব ছিল না। রাজনৈতিক কর্মসূচি মানেই ছিল অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক। তিনি দাবি করেন, সেই সময় রাজপথে নামলেই হামলার আশঙ্কা থাকত, যা এখনকার পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ স্বৈরাচার থেকে মুক্তি পেয়েছে। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার মতে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতেই জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিবর্তন এনেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *