সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজারে প্রধানমন্ত্রীর জিয়ারত, দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচি

সিলেট সফরের সূচনায় আধ্যাত্মিক আবহেই শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মহান সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (Hazrat Shahjalal)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে শনিবার (২ মে) দিনের কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে মাজার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান শেষে ১০টা ৫০ মিনিটে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।

এরপর দ্রুতই তিনি যোগ দেন উন্নয়নকেন্দ্রিক কর্মসূচিতে। সিলেট (Sylhet) সার্কিট হাউস সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের চাঁদনী ঘাট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং এক সমাবেশে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম সিলেট সফর, যা ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব দেখা গেছে। সফরের শুরুতেই প্রকৃতির বাধা ছিল—মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Osmani International Airport)-এ অবতরণ করে তাকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স (US-Bangla Airlines)-এর ফ্লাইট।

ঢাকা থেকে যাত্রার সূচনাও ছিল সময়মতো। সকালে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হয়ে ৯টা ২০ মিনিটে তিনি পৌঁছান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, সেখান থেকেই সিলেটের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করেন। সিলেট পৌঁছে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।

দিনব্যাপী সফরে উন্নয়নমূলক নানা কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। বেলা ১১টায় চাঁদনী ঘাটে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর দুপুর ১২টায় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া নদী পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি। বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

এছাড়া বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় এক সভায় যোগ দেওয়ারও সূচি রয়েছে। দিনের সব কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় আবারও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

এই সফরকে ঘিরে পুরো শহরজুড়ে প্রস্তুতির ছাপ স্পষ্ট। সড়ক সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ জোরদার করা হয়েছে। সড়কদ্বীপে নতুন গাছ রোপণ থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার-ফেস্টুন টানানো—সবকিছুতেই ছিল এক ধরনের উৎসবমুখরতা। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক দিক থেকেও সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)-এর নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। আগের দিন শুক্রবার বিকেল থেকেই বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের মিছিল ছিল চোখে পড়ার মতো।

উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি সিলেট সফরে এসেছিলেন তারেক রহমান। পরদিন ২২ জানুয়ারি সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেছিলেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের সফরকে রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *