ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party) বা এনসিপির প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র অবশেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (২ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেন দলের যুগ্ম সদস্য সচিব ও দপ্তর সেলের সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত (Saleh Uddin Sifat)।
তিনি জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন এখন বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলেও তাদের অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি দলীয়ভাবেও শিগগিরই একটি ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরা হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী এবং এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাছাইয়ের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট (High Court)। আদালতের সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন নতুন করে সময়সূচি নির্ধারণ করে তার মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের রিটার্নিং অফিসার মো. মঈন উদ্দীন খান (Md. Moin Uddin Khan) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মোছা. নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি—যার পিতা মো. আব্দুল হালিম এবং বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামে—সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা একটি রিট পিটিশন (নম্বর: ৫০২২ অব ২০২৬)-এর ২৭ এপ্রিলের আদেশ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়ন গ্রহণ ও বাছাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (Bangladesh Election Commission) নতুন সময় নির্ধারণ করে। জানানো হয়, ২ মে সকাল ১১টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় (কক্ষ নম্বর-৫০৪)-এ মনোনয়নপত্রের বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। ওই সময় প্রার্থীসহ তার প্রস্তাবক ও সমর্থকদের উপস্থিত থাকার জন্যও অনুরোধ জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
এছাড়া বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়, যাতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা যায়।
আইনি জটিলতা পেরিয়ে মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় এনসিপির ভেতরে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা, এরপরই শুরু হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ।


