দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি নদীর পানি এখনো বি’\পৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (Bangladesh Water Development Board)।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে কয়েকটি নদীর পানি এখনো বি’\পৎসীমার ওপরে অবস্থান করছে, যদিও কিছু এলাকায় পানি কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে নেত্রকোনা (Netrokona) জেলার দুর্গাপুরে ৬৫ মিলিমিটার, জারিয়াজঞ্জাইলে ৪৫ মিলিমিটার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া (Brahmanbaria) জেলায় ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সকাল ৯টার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হাওর বেসিনের তিন জেলার সাতটি নদীর আটটি পয়েন্টে পানি এখনো বি’\পৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর মধ্যে সুনামগঞ্জ (Sunamganj) জেলার নলজুর নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার বেড়ে জগন্নাথপুর পয়েন্টে বি’\পৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। অন্যদিকে ধনু-বাউলাই নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার কমে খালিয়াজুরি পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া সোমেশ্বরী নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার কমে কলমাকান্দা পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। ভুগাই-কংশ নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার কমে জারিয়াজঞ্জাইল পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার ওপরে এবং মগড়া নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার বেড়ে নেত্রকোনা পয়েন্টে ৮৫ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
একই সঙ্গে আটপাড়া পয়েন্টে মগড়া নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার কমে ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। হবিগঞ্জ (Habiganj) জেলার কালনী নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে আজমিরিগঞ্জ পয়েন্টে ২৯ সেন্টিমিটার ওপরে উঠেছে। অন্যদিকে সুতাং নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার কমে সুতাং রেল ব্রিজ পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবো আরও জানিয়েছে, সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের নদীগুলোর পানির স্তর ঘণ্টায় শূন্য থেকে ১ সেন্টিমিটার হারে ধীরে ধীরে কমছে। এতে সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


