ক্রুড অয়েলের সংকটে টানা ২৩ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে আবার সচল হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি (Eastern Refinery)। শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে চট্টগ্রামের এই একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার পূর্ণমাত্রায় কার্যক্রম শুরু করে। সৌদি আরব থেকে আমদানি করা ক্রুড অয়েল দিয়ে শুক্রবার সকালে পুনরায় চালু করা হয় রিফাইনারিটির উৎপাদন প্রক্রিয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
জানা গেছে, ভোর ৫টা থেকেই ফায়ার্ড হিটারে ক্রুড প্রসেসিংয়ের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। এরপর এক ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় শুরু হয় পরিশোধন কার্যক্রম। উত্তপ্ত ক্রুড অয়েল থেকে উৎপাদিত পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল ধাপে ধাপে নির্ধারিত ট্যাঙ্ক ফার্মে পাঠানো হচ্ছে। একই সময় শোধনাগারের পাশের জেটিতে অবস্থান করা লাইটারেজ জাহাজ থেকেও চলেছে সমানতালে ক্রুড অয়েল খালাস।
মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সাবেক মহাব্যবস্থাপক আকতার কামাল বলেন, রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েল পৌঁছেছে এবং শুক্রবার ভোর ৬টা থেকেই এর প্রসেসিং শুরু হয়েছে। দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উৎপাদিত জ্বালানি তিনটি তেল বিপণন কোম্পানির কাছে সরবরাহ করা হবে।
মূলত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পর্যাপ্ত ক্রুড অয়েল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার পর বহুল আলোচিত হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ক্রুড বহনকারী জাহাজ এমটি নাইমনিয়া বুধবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর (Chattogram Port) এলাকায় পৌঁছায়।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (Bangladesh Shipping Corporation)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, আরও এক লাখ টনের একটি কার্গো সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে লোড করা হবে। যেহেতু এটি গালফ অঞ্চলের বাইরের রুট, তাই চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব তুলনামূলক কম পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শোধনাগারটির দুটি ইউনিটে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এখান থেকে মোট ১৩ ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করা যায়। এছাড়া বিদ্যমান মজুত অপরিশোধিত জ্বালানি দিয়ে শোধনাগারটি প্রায় ২৫ দিন সচল রাখা সম্ভব।
তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করলে প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ২৪ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ২১ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন এবং ৮ হাজার মেট্রিক টন অকটেন উৎপাদন সম্ভব।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শোধনাগারটির কার্যক্রম যাতে আবার ব্যাহত না হয়, সেজন্য দ্রুত নতুন চালান নিশ্চিত করা জরুরি। ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যেই নতুন ক্রুড অয়েলের চালান আনার উদ্যোগ নিতে হবে বিপিসিকে, না হলে আবারও উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এদিকে চলতি মাসেই সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আরও এক লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি কেনা হয়েছে। আগামী ১০ মে ফুজাইরা বন্দর থেকে ক্রুড অয়েল নিয়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ভাড়া করা জাহাজ যাত্রা শুরু করবে এবং ২৫ মে’র মধ্যে তা চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, যদি নিয়মিতভাবে ৪ লাখ টন তেল দেশে এনে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে সরবরাহ করা যায়, তাহলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল এবং দেড় লাখ মেট্রিক টনের বেশি পরিশোধিত জ্বালানি মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে।


 (Tarique Rahman)-এর](https://tazakhobor.com/wp-content/uploads/2026/05/haaodder-ksstigrst-krsskder-drut-shaaytaar-nirdesh-taarek-rhmaan-https-tazakhobor-com-tag-taarek-rhmaan-tarique-rahman-er.webp)