আবু সাঈদ হ’\ত্যা মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসি গ্রে’\প্তার

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (Begum Rokeya University)-এর শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হ’\ত্যা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রে’\প্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রে’\প্তার করা হয়। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে রংপুরের বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদকে গ্রে’\প্তার করা হয়েছে।

এর আগে গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International Crimes Tribunal) আবু সাঈদ হ’\ত্যা মামলায় ড. হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

রায়ে আদালত শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হ’\ত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনই গ্রে’\প্তার আছেন।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিন আসামিও পুলিশের সাবেক সদস্য। তারা হলেন সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক রবিউল ইসলাম এবং সাবেক উপ-পরিদর্শক বিভূতিভূষণ রায়। তারা পলাতক।

এ ছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারাও পলাতক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেলকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমানকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাফিউল গ্রে’\প্তার আছেন, হাফিজুর রহমান পলাতক।

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, সাবেক নিরাপত্তাপ্রহরী নুর আলম মিয়া, সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মাহাবুবার রহমান এবং সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেনকেও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই পলাতক।

রংপুর মহানগর পুলিশ (Rangpur Metropolitan Police)-এর সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক। সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেন এবং সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার আরেক আসামি পলাতক চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেন চন্দনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি পলাতক।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমান, সহসভাপতি মো. ফজলে রাব্বি, সহসভাপতি মো. আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার এবং দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারাও পলাতক।

ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুল হাসানকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক। ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *