জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)-তে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই পদত্যাগের ধারা আরও তীব্র হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন এনসিপি আহ্বায়ক বরাবর অনলাইনে পদত্যাগপত্র পাঠান।
এর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে, দুপুর পৌনে তিনটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পদত্যাগ করেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি এনসিপির বিরুদ্ধে “পুরোনো উপনিবেশিক ব্যবস্থার অংশীজনদের সঙ্গে আপসের” অভিযোগ তোলেন।
একই দিনে দুইজন কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে গত আট দিনে এনসিপি থেকে মোট আটজন নেতা পদত্যাগ করলেন। এর বেশিরভাগই দলটির জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসনভিত্তিক সমঝোতার বিরোধিতাকারী।
জামায়াত-এনসিপি জোটের বিরোধিতা করে এর আগেই ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা দলীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন মুশফিক ও মুরসালীন দুজনেই।
২৫ ডিসেম্বর নাহিদ ইসলামের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ছয় নারী নেতা—সামান্থা শারমিন, মনিরা শারমিন, নুসরাত তাবাসুম, তাজনূভা জাবীন, তাসনিম জারা ও নাহিদা সারোয়ার নিভা—জোট বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানান। তাঁরা প্রায় চূড়ান্ত হওয়া আসন সমঝোতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এই ধারাবাহিক পদত্যাগ শুরু হয় ২৩ ডিসেম্বর, যেদিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman) দেশে ফেরেন। তাকে সমর্থন জানিয়ে সেদিনই পদত্যাগ করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক।
পরবর্তীতে ২৫ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা, যিনি পরে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ঘোষণা দেন।
পরদিন ২৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন এবং জানান, তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন না।
৩০ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসিফ মোস্তফা জামাল (নেহাল) এবং কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী আজাদ খান ভাসানী।
শেষপর্যন্ত ৩১ ডিসেম্বর রাতেও এনসিপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পদত্যাগের ঘোষণা দেন যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।
এছাড়াও নির্বাচন কালীন সব কর্মকান্ড থেকে সরে যান, মনিরা শারমিন, অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা ঝুমা, নুসরাত তাবাসসুম প্রমুখ।
দলীয় অভ্যন্তরে এমন ব্যাপক ক্ষোভ ও পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এনসিপির নেতৃত্ব সংকট এবং জোট রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


