এখন পর্যন্ত জামায়াতের ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

নির্বাচনী যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে একাধিক কারণে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত পাঁচ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে বিভিন্ন আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তারা। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—সরকারি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন, হলফনামায় তথ্য গোপন, দ্বৈত নাগরিকত্ব, আদালত অবমাননার মামলা এবং ব্যাংক ঋণসংক্রান্ত জটিলতা।

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে প্রার্থী অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি এমপিওভুক্ত কলেজে শিক্ষকতা করছেন। সরকারি নিয়মানুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কেউ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে প্রথমে পদত্যাগ করতে হয়। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা শুক্রবার মনোনয়ন যাচাই শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ইউসুফ সোহেলের মনোনয়ন বাতিল হয় হলফনামায় অপর্যাপ্ত ও অসম্পূর্ণ তথ্য জমা দেওয়ার কারণে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বিষয়টি জানান, যেখানে ইউসুফ সোহেল নিজেও উপস্থিত ছিলেন। তিনি জামায়াতের কুমিল্লা উত্তর জেলা কর্মপরিষদের সদস্য এবং মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান।

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার একটি মামলা রয়েছে, যা হলফনামায় গোপন রাখার অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান। প্রশাসন সূত্র জানায়, আপিলের মাধ্যমে তিনি সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।

কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম (সালেহী)-এর মনোনয়ন স্থগিত হয়েছে দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে। তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করলেও এ সংক্রান্ত কোনো প্রমাণপত্র দাখিল করেননি। সংবিধান ও নির্বাচনী বিধিমালার আলোকে দ্বৈত নাগরিকত্ব বজায় রেখে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে মনোনয়ন যাচাইয়ের পর ১০ জনের মধ্যে ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। তাদের একজন, জামায়াত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয় ব্যাংক ঋণ (বিশেষ করে ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত) সমস্যার কারণে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ঋণখেলাপিরা সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না।

এইভাবে একদিনেই জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়েছেন বিভিন্ন কারিগরি, আইনি ও প্রশাসনিক কারণে। আগামী দুই দিনে এই সংখ্যা আরো বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব ঘটনায় দলটির প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনে দায়ের করা আপিলের সিদ্ধান্তের ওপর। এমিনিতেই জোটের স্বার্থে ২৪ আসনে মনোনয়ন পড়তো জমাই দেয়নি জামায়াতের নেতারা। আর তার মধ্যে আবার একের পর এক মনোনয়ন বাতিল নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াতের জন্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *