ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া সেই এনসিপি নেতাকে আদালতে প্রেরণ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাভারের সম্মুখসারির সংগঠক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাভার উপজেলার সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী তৈবুর রহমানকে ডিবি (পুলিশের গোয়েন্দা শাখা) পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তরায় এ ঘটনা ঘটে।

শনিবার রাতে তৈবুরের কোনো খোঁজ না পাওয়া গেলেও আজ (রবিবার) তার খোঁজ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সাভার উপজেলা এনসিপির সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক জুলকারনাইন।

এনসিপির এ নেতা বলেন, তৈবুরকে ডিবি তুলে নিয়েছিল। পরে আগের একটা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আজ সিএমএম কোর্টে (রমনা অঞ্চলের কোর্ট) তুলেছে। তবে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ তা আমি বলতে পারছি না। আমি কোর্টে যাচ্ছি। গিয়ে খোঁজ নেব।

একই কমিটি সদস্য রনি আহমেদ বলেন, তৈবুর গতকাল ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) থেকে এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল আপার সাথে নমিনেশন যাচাই-বাছাইয়ের কাজে ছিলেন। পরে উনি একটি কাজে উত্তরা যান। তবে রাত থেকে আমরা তার সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না।

আরও পড়ুন: দুই কারণে এনসিপি থেকে পদত্যাগ দেড় ডজন নেতার, পরবর্তী গন্তব্য কোথায়?

তিনি আরও বলেন, আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, তাকে উত্তরা জমজম টাওয়ারের আশপাশ থেকে তুলে নেওয়া হয়। আমরা ডিবি ও পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে সন্ধান পাইনি। পরে আজ সকালে জানতে পেরেছি ওনাকে ডিবি তুলে নিয়েছে।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এনসিপি নেতা জানান, গ্রেফতার হওয়া তৈবুরের বিরুদ্ধে আগের একটি প্রতারণা মামলা ছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে শুনেছি, তবে বিষয়টি সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই।

এর আগে, শনিবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে বিষয়টি জানিয়ে একটি পোস্ট করেন আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-১৯ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য ‍যুগ্ম সমন্বয়ক দিলশানা পারুল।

তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, তৈয়বুর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাভারের ফ্রন্ট লাইনের সংগঠক, আমাদের এনসিপির সাভারের বর্তমান নেতা। আমার ঢাকা-১৯ নমিনেশন সাবমিশনের সাভারের ভোটার হিসেবে প্রস্তাবনাকারী। গতকাল নমিনেশন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় দুপুরে আমার সাথে ছিল। আমার নমিনেশন বৈধ ঘোষণার পর সেখান থেকে সে উত্তরা চলে যায়।

তিনি বলেন, উত্তরা থেকে ডিবি পুলিশ তৈয়বুরকে অ্যারেস্ট করেছে। উত্তরা কোন থানায় তৈবুরের কোন খোঁজ আমরা পাচ্ছি না। অনতিবিলম্বে তৈবুরকে কোথায় আটকে রাখা হয়েছে আমাদেরকে জানতে দিতে হবে। এভাবে হাসিনা আমলের মত ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়া চলতে পারে না।

এ বিষয়ে এনসিপি নেতা আমিরুল ইসলাম সাগর বলেছিলেন, তৈয়বুরকে তুলে নেওয়ার পর থেকে আমরা উত্তরার একাধিক থানায় যোগাযোগ করেছি। তারা তাকে নেয়নি বলে জানিয়েছে। ডিবিতেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তারাও অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে, বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পুলিশের এ গোয়েন্দা বিভাগের (ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ-ডিবি) একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে কল দিলে সাড়া পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে রমনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাহাৎ খান বলেন, গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের থানায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *