বিএনপির (BNP) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman) বলেছেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ঢাকা-১৭ আসনের তিনটি বস্তির বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বনানী ও ক্যান্টনমেন্ট থানার স্থানীয় নেতাকর্মী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা এলাকার নাগরিক সমস্যা ও ভোটারদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। তারেক রহমান এসব বিষয় মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তা নোট করেন। সেই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে দলের নেতাকর্মীদের মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশও দেন তিনি।
ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য, জানান যে, এই মতবিনিময়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন এবং তারেক রহমান দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন। একই সঙ্গে প্রার্থিতা ও প্রচার-প্রচারণার কৌশল নিয়েও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির। তিনি জানান, “এটা ছিল একটি পলিসি নির্ভর আলোচনা। ১৭ নম্বর আসনে দুই ধরনের ভোটার আছেন—একদিকে উচ্চবিত্ত গুলশান-বনানীর বাসিন্দারা, অন্যদিকে নিম্নআয়ের বস্তিবাসী। এই দুই শ্রেণির চাহিদা ও সমস্যা সম্পূর্ণ ভিন্ন।”
নাসির বলেন, “আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বস্তিবাসীদের বিষয়ে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়েছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, যারা বিগত ৩ থেকে ৫ বছর ধরে এই আসনের তিনটি বস্তিতে বসবাস করছেন, তাদের জন্য সেখানেই পুনর্বাসনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও জানান, গুলশান ও বনানী এলাকার ভোটাররা শব্দ দূষণ, ট্রাফিক জ্যাম এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। এসব সমস্যাও আলাদাভাবে চিহ্নিত করে নোট নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে এই মতবিনিময় সভা নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় বলে জানানো হয়, যেখানে স্থানীয় বাস্তবতা ও জনগণের প্রত্যাশা গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছেন তারেক রহমান। প্রথমে জোটের পক্ষ থেকে আন্দালিব রহমান পার্থকে প্রার্থী হিসাবে গ্রীন সিগন্যাল দেওয়া হলেও পরবর্তীতে এখানে প্রার্থী হন তারেক রহমান। আন্দালিব রহমান পার্থকে তার ভোলার আসন থেকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে।


