অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ১৫ জানুয়ারি থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযান আরও গতিশীল হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলার ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘গত ১৩ নভেম্বর শুরু হওয়া যৌথ বাহিনীর ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অপারেশনে দুই শতাধিক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। চলতি সপ্তাহে অথবা ১৫ জানুয়ারি থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযান আরও গতিশীল হবে। আমরা আশাবাদী, অভিযানে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি আরও বেশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হবে।’
মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বার্তা হচ্ছে—স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা। মাঠপর্যায়ে আপনারা এটার বাস্তবায়ন দেখতে পাবেন। দৃঢ়ভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে যা যা করণীয়, সেগুলো করা হবে। অতীতে আমরা যে খারাপ নজিরগুলো দেখেছি, এগুলো আর বাংলাদেশে হবে না বলে আশা করছি।’
ইসি সানাউল্লাহ আরও বলেন, ‘একটা কথা বলা দরকার—প্রাথমিক পর্যায়ে সার্বিকভাবে দেশের সব জায়গায় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালা প্রতিপালনের ব্যাপারে অধিকতর সতর্কতা আমরা দেখতে পাচ্ছি। অন্তঃকোন্দলের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম দেখতে পাচ্ছি। এগুলো ভালো লক্ষণ।
‘আমরা দেখতে চাই, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, তখন কোন্দল না বেড়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশের মাধ্যমে যেন সত্যিকার অর্থে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারি—এটা জাতির দাবি, সময়ের দাবি। এ জন্য নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এই কাজে সহযোগিতা করবেন।’
আচরণ বিধিমালার বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘প্রার্থীদের আচরণবিধি প্রতিপালনে যা যা করণীয়, তা করেছি এবং করা হবে। কোথাও পক্ষপাতদুষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আমাদের ইলেকট্রনিক ইনকোয়ারি কমিটি আছে, তারা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
‘কারও বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে নির্বাচন কমিশনের যে কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট কমিটি আছে, সেখানে যথাযথ পদ্ধতিতে অভিযোগ করলে তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। তবে রাজনৈতিক বক্তব্য যেগুলো থাকবে, সেগুলোর বিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।’
গণমাধ্যমের উদ্দেশে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘স্বচ্ছতার কথা আমরা যেটা বলেছি, তার একটা বড় অংশ হচ্ছে, যথাযথ সময়ে সকল তথ্য তুলে ধরা। আপনাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, আপনারা সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরবেন, যাতে আমরা সবাই ঘটনার বিষয়ে অবহিত হতে পারি।’
ইসি বলেন, ‘অপতথ্য ও গুজব একটা সামাজিক প্রবণতা। এটা আমরা প্রায় সময় দেখে থাকি। এটা শুধু আমাদের দেশে সমস্যা নয়, বিশ্বব্যাপী এই ধরনের প্রবণতা আছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক ধরনের অপতথ্য ও গুজবের প্রবণতা বাড়ে। অপতথ্য ছড়ানো যেমন অপরাধ, অপতথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করাটাও অপরাধ। এতে গণমাধ্যমগুলো একটা বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।’
চট্টগ্রামে সম্প্রতি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘পলিটিক্যাল মার্ডার যেটা বলছেন, সেটা আমরা এক লাইনে বলতে পারলে খুব সহজ হতো। কিন্তু আমরা এটা বলতে পারছি না। প্রতিটা ঘটনার সঙ্গে কিন্তু অনেকগুলো কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র থাকে।
‘বিশেষ করে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড থাকে। তারপরে রাজনীতিও এটার সঙ্গে জড়িত থাকে। এগুলো নিয়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।’
মতবিনিময় সভা শেষে ইসি সানাউল্লাহ নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। এক প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো রকমের শঙ্কা নেই। এটা এক লাইনের উত্তর।
এ সময় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন, জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিয়াসহ নির্বাচন কর্মকর্তা ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


