জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন—জকসু (Jagannath University Central Students’ Union – JAKSU)—এর ভোটগ্রহণ শেষ হলেও এখনো শুরু হয়নি ভোট গণনা। ওএমআর মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভোট গণনা কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁক গলে বহিরাগতদের প্রবেশ ও বিচরণ নিয়ে শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ বিকেল ৩টার আগে যারা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন, কেবল তারাই ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। এর আগে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সোমবার সন্ধ্যা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়—শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কারও ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
তবে বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে একাধিক বহিরাগতকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। ক্যাম্পাসজুড়ে একাধিক চেকপোস্ট থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তারা ভেতরে প্রবেশ করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেটে এসময় সোহান নামের এক ছাত্রদল কর্মীকে কার্ড এক্সচেঞ্জ করার সময় হাতেনাতে ধরা হয়। পরে তাকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়। একইভাবে, হাসান নামে শিবির সমর্থিত প্যানেলের এক এজেন্ট বৈধ কার্ড দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকেও ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
এ ধরনের ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন প্রার্থী। তাঁদের অভিযোগ, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরও যদি বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে পুরো নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে ভোট গণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এমন শিথিলতা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর মাহাদী হাসান জুয়েল বলেন, ‘ঢুকলে আমি কি করবো। তোমরা বের করে দাও।’ তাঁর এই বক্তব্য নিয়েও ক্যাম্পাসজুড়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।


