“শেখ হাসিনার চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট সরকার গঠনের পথ তৈরি হচ্ছে”—হাসনাত কাইয়ূমের অভিযোগ

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে একটি আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রণমূলক সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন (Rashtra Songskar Andolon)-এর সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। বুধবার ঢাকার তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজায় দলটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট সরকার তৈরির সব আয়োজন চলছে।”

‘বিভাজনের মাফিয়াতান্ত্রিক রাজনীতি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও জনগণের করণীয়’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে তিনি আরও বলেন, “আমলাতন্ত্র, রাষ্ট্রযন্ত্র এবং কিছু রাজনৈতিক দল মিলে দেশের সংস্কার সম্ভাবনাকে ধ্বংস করছে। এই ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের সরকারকে আরও কঠোর, প্রতিহিংসাপরায়ণ ও দমনমূলক করে তোলার পথ প্রশস্ত হচ্ছে।”

হাসনাত কাইয়ূমের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের নির্বাচন কমিশন বড় দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা সীমাবদ্ধ রাখছে। তিনি বলেন, “ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সুযোগ রাখা হলেও বাস্তবতা হচ্ছে—সংস্কার, উদারতা বা একাত্তরের পক্ষের রাজনীতি করতে চাইলে এমন কোনো বিকল্প রাখা হয়নি যা প্রভাবশালী দুই ধারার বাইরে অবস্থান করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপিকে ভোট দিলে লুটপাট ও দখলবাজির ইতিহাস মেনে নিতে হবে, আবার জামায়াতকে ভোট দিলে গণহত্যা উপেক্ষা করতে হবে। এই দুই বিভক্ত ধারার বাইরে জনগণের জন্য কোনো নৈতিক, আদর্শিক বা সংস্কারমুখী বিকল্প রাখেনি কমিশন।”

সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় হস্তক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাও এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন আদালতের রায় অমান্য করে ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য নির্বাচন করতে যাচ্ছে।”

বক্তারা অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নিবন্ধন না দিয়ে নির্বাচন কমিশন আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করতে পুলিশ দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

হাসনাত কাইয়ূম ঘোষণা দেন, প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালতে যাবেন এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন অহিংস আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি আবুল বাশার, ব্রহ্মপুত্র রক্ষা কমিটির সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *