ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে ভোটের ফলাফল নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে পোস্টাল ব্যালট। কারণ এই আসনেই সবচেয়ে বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন—সংখ্যাটি ১৫ হাজার ১৬৪ জন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে অনলাইনে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি নাগরিক নিবন্ধন করেছেন, যাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই প্রবাসী। আসনভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফেনী-৩ (Feni-3) এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
এই পোস্টাল ভোটারদের সংখ্যা এমন একটি সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, যখন ফেনী-৩ আসনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন প্রার্থী। এই আসনে মোট ১১টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছিল, তবে এর মধ্যে চারটি বাতিল এবং সাতটি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ফেনী-৩ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন:
– বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল মিন্টু
– জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান
– জামায়াতে ইসলামির মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন
– ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সাইফ উদ্দিন
– ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আবু নাছের
– বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর আবদুল মালেক
– বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. খালেকুজ্জামান পাটোয়ারী
চট্টগ্রাম-১৫ ও নোয়াখালী-১ আসনেও যথাক্রমে ১২,৭৪০ ও ১২,৬১২ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন, কিন্তু ফেনী-৩ আসনের সংখ্যাটি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পোস্টাল ব্যালটের এই উচ্চসংখ্যক ভোটার অংশগ্রহণ শুধু ভোট পড়ার হার বাড়াবে না, বরং আসনভিত্তিক ফলাফলেও স্পষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে।
যেহেতু পোস্টাল ব্যালট মূলত প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবীদের ভোটাধিকারের একটি কার্যকর মাধ্যম, তাই তাদের সিদ্ধান্ত অনেকক্ষেত্রে হাওয়ার গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


