প্রথম আলোতে হামলায় গ্রেফতার ৮ আসামি দু’দিনের রিমান্ডে

দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোর অফিসে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় তেজগাঁও থানায় হওয়া মামলায় গ্রেফতার আট আসামির প্রত্যেককে দু’দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরের ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত এই আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিন আসামিদের আদালতে তোলা হলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন। বিপরীতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন চান। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে প্রত্যেককে দু’দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়ারা হলেন, মো. নাইম ইসলাম (২৫), মো. সাইদুর রহমান (২৫), আবুল কাশেম (৩৩), মো. প্রান্ত সিকদার (২১), মো. রাজু আহম্মেদ (৩৩), মো. সাগর ইসলাম (৩৭), মো. জাহাঙ্গীর (২৮) ও মো. হাসান (২২)।

এর আগে গত বুধবারও এই আট আসামিকে আদালতে তোলা হয়। দিনটিতে মামলার নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ত্রিদীপ বড়ুয়া সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে, ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ তদন্তে সন্তুষ্ট না হওয়ায় একদিন বাড়িয়ে আজ দিন ধার্য করেন।

ওই সময় আদালতে নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশে বিচারক বলেন, “আট আসামির রিমান্ড চাইলেন, মামলায় কে ছিল কে নাই এটার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তো লাগবে। তদন্ত এরকম হলে কেমনে হবে? রিমান্ড চাইতে তো একটা ন্যূনতম প্রস্তুতি লাগবে।” আয়ুর উদ্দেশে বিচারক বলেন, “আপনি নতুন আয়ু, একটু দেখেন, আরও প্রস্তুতি নিয়ে কালকে আসেন, এভাবে হবে না।”

এর আগে মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (ওসি) আবদুল হান্নান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৮ ডিসেম্বর রাত সোয়া ১১টার দিকে ২০ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা, দাহ্য পদার্থ নিয়ে মিছিল করে কাওরান বাজারের প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে এসে হামলার চেষ্টা চালায়। পুলিশ বাধা দিলে তারা পত্রিকাটির কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়ে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী স্লোগান দেয়। বিভিন্ন জায়গায় ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তারা লোক জড়ো করে। পরবর্তীতে ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ জন দুষ্কৃতকারী প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে দুষ্কৃতকারীরা প্রথম আলো কার্যালয়ের ফটকের কাচ ও শাটার ভেঙে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। তারা আসবাব, মালপত্র, নথিপত্র নিচে ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিভিন্ন তলার দেড় শত কম্পিউটার, ল্যাপটপ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, লকারে রাখা টাকা, প্রথমা প্রকাশনের বইপত্র লুট করে নিয়ে যায়। ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নষ্ট করে ফেলে। সাক্ষ্য প্রমাণ নষ্ট করতে সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। তারা ফায়ার সার্ভিসকেও আগুন নেভানোর কাজে বাধা দেয়। হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় শুধু লুটপাট করা সম্পদের মূল্য আড়াই কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩২ কোটি টাকা।

ওই ঘটনায় প্রথম আলোর হেড সিকিউরিটি অফিসার মেজর (অব.) মো. সাজ্জাদুল কবির বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *