আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়াকে নিয়া স্মৃতিচারণা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ স্মৃতিচারণা করেন।
ফেসবুক পোস্টে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি বেগম জিয়ার ভক্ত ছিলাম এরশাদ আমল থেকে। তিনি সম্ভবত আমাকে পছন্দ করতেন সাংবাদিক হিসেবে। বিএনপির অফিস ছিল তখন ধানমন্ডিতে। ১৯৮৮/৮৯ সালের কথা। আমি উনার অফিসে বসে সাক্ষাৎকার নিচ্ছি। লিখিত প্রশ্ন, তবে সম্পুরক প্রশ্ন করা যাবে সামনাসামনি বসে- এটাতে উনি রাজী হলেন।’
তিনি জানান, বিএনপিতে তখন ম্যাডামের সাক্ষাৎকার বিষয়গুলো দেখাশোনা করতেন প্রয়াত ফজলুর রহমান পটল ভাই। মহাসচিব ছিলেন ব্যারিষ্টার আবদুস্ সালাম তালুকদার ভাই। ম্যাডামের রুমে আমি ঢুকলাম ছাত্রদল সভাপতি আসাদুজ্জামান রিপনকে সাথে নিয়ে। ম্যাডাম একটা বিরাট টেবিলের পেছনে বড়সড় চেয়ারে। সামনে টেবিল ঘিরে রাখা চেয়ারের একটাতে আমি, দুরের আরেকটাতে রিপন ভাই। লম্বালম্বি ঘরটার অন্যপ্রান্তে বেতের সোফাসেট।
উপদেষ্টা বলেন, আমি ম্যাডামকে বেশ চোখা একটা প্রশ্ন করলাম। তিনি একটু থেমে গেলেন। পেছন থেকে সয়ফুর রহমান সাহেব বললেন, এটা আপনি কি প্রশ্ন করলেন উনাকে!
আমি তখন খুব রাগী তরুণ ছিলাম। জনাব রহমানকে বললাম, আপনি কথা বলছেন কেন! আমি তো আপনার ইন্টারভিউ নিচ্ছি না! তিনি রেগে কিছু বলতে যাচ্ছিলেন। ম্যাডাম তাকে থামালেন। তারপর হাসিমুখে আমার প্রশ্নের উত্তর দিলেন। এরপরও চার/পাচবার উনার একান্ত ইন্টারভিউ নিয়েছি।
পিএইচডি করে দেশে ফেরার পর আমি কলামিষ্ট হলাম, টক শোতে কথা বলা শুরু করলাম। একসময় উনার দু:খের দিন শুরু হলো। দু:খ আর সাথে সাথে উনার অসীম আত্মত্যাগ, সাহসিকতা আর নি:সঙ্গতার দিন!
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমি ম্যাডামকে প্রচণ্ড ভালোবাসতে আর শ্রদ্ধা করতে শুরু করলাম। শেখ হাসিনার ফ্যসিষ্ট আমলে কোনদিন আমি এই শ্রদ্ধা আর সমর্থন প্রকাশে বিরত ছিলাম না। মীর্জা ফখরুল ভাই ছাড়া বিএনপির-ই কাউকে ম্যাডামের পক্ষে এতোটা বলতে শুনিনি সেই পনের বছরে।’
আল্লাহ্ আমাকে তার প্রতিদান দিয়েছেন কিছুটা। ম্যাডামকে বিদায় দেয়ার দিনে প্রায় সারাটা সময় ছিলাম উনার আর উনার পরিবারের আশেপাশে। উনাকে জড়িয়ে রাখা বাংলাদেশের পতাকা উনার ছেলের হাতে তুলে দেয়ার ভাগ্যও হলো আমারি। শোকর আলহামদুল্লিলাহ্ ।


