‘পাথরে ঠাসা ছিল জিয়াউলের মস্তিষ্ক, যাকে বোঝানোর উপায় নেই’

আওয়ামী লীগের শাসনামলে শতাধিক গুম-খুনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলকে এ কথা জানান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। আসামিপক্ষকে জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য সামনে আনেন।

এ সময় তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জবানবন্দির কিছু অংশ পড়ে শোনান চিফ প্রসিকিউটর। জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসানের বিভিন্ন বিভৎসতা তুলে আনেন তিনি। এর মধ্যে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেজর জেনারেল মুজিবকে অনুরোধ করেন ইকবাল করিম। এরপর দেশজুড়ে প্রকাশ্যে বন্দুকযুদ্ধ কিছুটা থেমে যায়। কিন্তু আড়ালে ঠিকই এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করেছিলেন জিয়াউল। এছাড়া র‌্যাবের এডিজি পদে আসীন হতেই অস্বাভাবিক হত্যাকাণ্ড বাড়িয়ে দেন তিনি। জিয়াউলের এসব কর্মকাণ্ড থামাতে তখন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জগলুলকে বোঝানোর জন্য বলা হয়।

তখন ইকবাল করিমের উদ্দেশ্যে জগলুল বলেন, ‘এমন একজন মানুষকে বোঝাতে বলেছেন। যার মাথা পাথর দিয়ে ঠাসা। তাকে বোঝানোর কোনো উপায় নেই।’ নিজের জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া এমনই সব কথা উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৪ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

জিয়াউলের পক্ষে আজ শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও তার বোন আইনজীবী নাজনীন নাহার। তারা প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগের বিরোধিতা করে জিয়াউলের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। তাদের মতে এ মামলায় প্রসিকিউশন কোনো তথ্যপ্রমাণ আনতে পারেনি। এজন্য অব্যাহতির (ডিসচার্জ) আবেদনটি ট্রাইব্যুনালের বিবেচনায় রাখার প্রার্থনা করেন।

এদিকে আজ সকালে কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জিয়াউলকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তার সামনেই এসব শুনানি হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *