ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক ভিডিও বার্তায় তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
ভিডিওতে একরামুজ্জামান বলেন, তিনি ২০০৪ সাল থেকে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি (BNP)-র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দলটির পতাকাতলে থেকে কাজ করেছেন। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর নির্দেশে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে দেওয়া তার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে দলের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সকলের দোয়া কামনা করেন।
এর আগে গত ২ জানুয়ারি যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান।
উল্লেখ্য, একরামুজ্জামান এক সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)-র উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই নির্বাচনে জয়লাভের পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বোটক্লাবে তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে তার আওয়ামী লীগ (Awami League)–এ যোগদানের ঘোষণা আসে।
তবে একরামুজ্জামান দাবি করেছেন, পরে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা হয়, যেগুলো এখনো বিচারাধীন।
তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।


