লন্ডনের রাস্তায় চলন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে সিগারেটের টুকরো ফেলে এবং পরে চালকের পরিচয় গোপন করার দায়ে বড় অঙ্কের জরিমানার কবলে পড়েছেন পূর্ব লন্ডনের এক প্রবাসী বাংলাদেশি। টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দা সাদিক আলীকে আদালত ও কাউন্সিলের খরচসহ সর্বমোট ৭০০ পাউন্ডের বেশি জরিমানা করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ৫০০ টাকার সমান।
সম্প্রতি বার্কিংসাইড ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দীর্ঘ শুনানির পর এ রায় ঘোষণা করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, টাওয়ার হ্যামলেটসের বার্জেস স্ট্রিটের বাসিন্দা সাদিক আলীর গাড়ি থেকে চলন্ত অবস্থায় সিগারেটের অবশিষ্টাংশ রাস্তায় ফেলা হয়। বার্কিং ও ড্যাগেনহাম কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি শনাক্ত করার পর গাড়ির মালিক হিসেবে সাদিক আলীকে নোটিশ পাঠায় এবং ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিলেন, তা জানতে চায়। কিন্তু বারবার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি কর্তৃপক্ষের চিঠির কোনও উত্তর দেননি এবং চালকের পরিচয় নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হন।
গত ২ ডিসেম্বর আদালতে উপস্থিত হয়ে সাদিক আলী নিজের দোষ স্বীকার করেন। আদালত সার্বিক তথ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে তাকে মূল জরিমানা ১৫০ পাউন্ড (প্রায় ২৩ হাজার ২৫০ টাকা), ভিকটিম সারচার্জ ৬০ পাউন্ড (প্রায় ৯ হাজার ৩০০ টাকা) এবং আইনি খরচ (কাউন্সিলকে প্রদেয়) ৫০০ পাউন্ড (প্রায় ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা) পরিশোধের নির্দেশ দেন।
অর্থাৎ সামান্য একটি সিগারেটের টুকরো ফেলা এবং আইনি নোটিশ অবজ্ঞা করার কারণে তাকে মোট ৭১০ পাউন্ড বা ১ লাখ ১০ হাজার টাকার কাছাকাছি আর্থিক দণ্ড ভোগ করতে হচ্ছে।
বার্কিং ও ড্যাগেনহাম কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে রাস্তাঘাটে পানের পিক কিংবা সিগারেটের টুকরো ফেলে পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
লন্ডনের স্থানীয় কাউন্সিলগুলো সতর্ক করে বলেছে, সিসিটিভি ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীর ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সহজ। আইনি নোটিশ উপেক্ষা করলে জরিমানার পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তুচ্ছ ভুলের জন্য বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক বিড়ম্বনায় পড়তে না হয়।


