অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ১৪’শ মানুষ এবং প্রায় ৩০ হাজার অঙ্গহানি হওয়া আহতদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন, সংস্কারমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলা। সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আসন্ন গণভোটে সংস্কারের পক্ষে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ ময়দানে ‘ভোটের গাড়ি: দেশের চাবি আপনার হাতে’ শীর্ষক কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বা গণভোট কোনো সাধারণ রাজনৈতিক আয়োজন নয়, এটি গত ৫০ বছরের বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণের প্রশ্ন। এই গণভোটের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, গুম-খুনের সংস্কৃতি বন্ধ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের একটি সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজ জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। যারা দেশের আমূল সংস্কার চান, তাদের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়াই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।
উপদেষ্টা বলেন, এই অন্তর্বর্তী সরকার কোনো রাজনৈতিক দলের সরকার নয়, ফলে কোনো বিশেষ দলের প্রতি আমাদের পক্ষপাত নেই। দেশের সংখ্যালঘু, আদিবাসীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন নির্বিঘ্নে, নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারেন, সে জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণই প্রমাণ করবে প্রকৃত ক্ষমতার মালিক কারা।
ফাওজুল কবির খান আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল বলেই জুলাই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, যে ১৪’শ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ দৃষ্টিশক্তি ও অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদের রক্ত যেন বৃথা না যায় সে জন্য জনগণকে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই গণভোটে যে রায় আসবে, জাতি হিসেবে আমরা সেই সিদ্ধান্তের পেছনেই ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াব।


