গাজা (Gaza) উপত্যকায় মোতায়েন হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে অংশ নিতে চায় বাংলাদেশ। শনিবার (৬ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানানো হয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক অ্যালিসন হুকার ও পল কাপুর–এর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। পরে সরকারিভাবে জানানো হয়, খলিলুর রহমান গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হতে নীতিগতভাবে বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তবে এই অংশগ্রহণের ধরন, সময়সীমা কিংবা বাহিনীর আকার নিয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
উল্লেখযোগ্য যে, চলমান ইসরাইল-হামাস (Israel-Hamas) সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়, যেখানে গাজায় একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বোর্ড অব পিস এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোকে গাজায় শান্তি রক্ষার জন্য সহায়তা করতে বলা হয়।
তবে বাস্তবতায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ কার্যকর হলেও, পরবর্তী ধাপগুলোর বাস্তবায়নে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যে গত অক্টোবর থেকে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতির সময়ের মধ্যেও ৪০০’র বেশি ফি’\লি’\স্তি’\নি ও তিনজন ইস’\রা’\ই’\লি সেনা নি’\হত হয়েছেন।
বর্তমানে গাজার প্রায় ২০ লাখের বেশি মানুষ মানবিক সংকটে রয়েছে। অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত ভবন বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছে। যুদ্ধবিরতির সম্ভাব্য দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে এখনো ইসরাইল (Israel) ও হামাস (Hamas) একমত হতে পারেনি। বরং, উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।
বাংলাদেশ অতীতেও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গাজা ইস্যুতে অংশগ্রহণের এ আগ্রহ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও বিষয়টি এখনো নীতিগত স্তরেই রয়েছে।


