কুমিল্লার মুরাদনগরে দলের স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে জামায়াতে ইসলামী থেকে পদত্যাগ করলেন দ্বীন ইসলাম। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে ছাত্রশিবির ও পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে জড়ান।
আজ সোমবার তিনি ফেসবুক স্টাটাসের মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে দল থেকে পদত্যাগ করেন। ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
পদত্যাগ পত্র।।।।।।।
আমি ১৯৯১/৯২ সাল থেকে ইসলামি ছাত্র শিবির ও জামায়াতে ইসলামীর একজন অগ্রসর কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি।
কোম্পানিগঞ্জ বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজ থেকে ১৯৯৬ ও ১৯৯৮ সালে ছাত্র শিবিরের প্যানেল থেকে পর্যায়ক্রমে এজিএস ও জিএস পদে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি।
গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী আওয়ামী আমলে প্রতিটি আন্দোলন–সংগ্রামে আমি সামনে থেকে অংশ নিয়েছি, জেল–জুলুম ও নির্যাতনের ভয় উপেক্ষা করে সংগঠনের পাশে থেকেছি।
দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, আজ সেই সংগঠনের ভেতরেই কিছু দায়িত্বশীলের স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অবহেলার রাজনীতি আমাকে চরমভাবে হতাশ করেছে। ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের অবমূল্যায়ন করে সুবিধাভোগীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, ন্যায়বিচার ও সাংগঠনিক শিষ্টাচার ভেঙে পড়ছে। যোগ্যতা ও ত্যাগ নয় আজ মূল্যায়ন হয় কে কার ভাই কার আত্মীয় কে কার লোক এই ভিত্তিতে।
আমি ইসলামী আন্দোলনের আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হইনি। কিন্তু যারা আজ নেতৃত্বে বসে সেই আদর্শকেই পদদলিত করছে, তাদের সাথে আর নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে পারছি না।
অত্যন্ত কষ্ট ও বেদনার সাথে জানাচ্ছি—
আমি জামায়াতে ইসলামী ও এর সকল সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এটি কোনো আবেগী সিদ্ধান্ত নয়; এটি দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়ন, অপমান ও ন্যায়ের অভাবের বিরুদ্ধে আমার নীরব প্রতিবাদ। সুতরাং আমি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করছি জামায়াতে ইসলামী ও এর সকল সাংগঠনিক সম্পর্ক থেকে পদত্যাগ করলাম।
আল্লাহ আমাদের সকলকে ন্যায়ের পথে থাকার তৌফিক দিন। আমিন।


